মোক্ষম সময়ে জ্বলে উঠলো আবাহনীর টপ অর্ডার

বিশেষ সংবাদদাতা বিকেএসপি থেকে
প্রকাশিত: ০২:৫৪ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৯
মোক্ষম সময়ে জ্বলে উঠলো আবাহনীর টপ অর্ডার

যে দলের ব্যাটিং লাইন আপে জহুরুল, সৌম্য, মিঠুন, ওয়াসিম জাফর, মোসাদ্দেক, সাব্বিরের মত সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান; সাইফউদ্দীন, মিরাজরাও কম যান না। পুরো প্রিমিয়ার লিগে সেই দলের টপ অর্ডার প্রায় নিষ্প্রভ। ওপেনিং জুটি তো বরাবরই ফ্লপ ছিল বলা চলে। টপ অর্ডারে বাকি ব্যাটসম্যানরাও জ্বলে উঠতে পারছিল না।

এই লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষেই তো গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১২২ রানে অলআউট হয়েছিল আবাহনী। সেই দলটিই আবার রূপগঞ্জের মুখোমুখি আজ। বিকেএসপিতে এই ম্যাচে হারা মানেই শিরোপা থেকে ছিটকে পড়া নিশ্চিত। আবাহনীর শিরোপা জয়ের আর কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না।

এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসেই কি না, একেবারে সময়মত জ্বলে উঠলো আবাহনীর টপ অর্ডার। দুই ওপেনার একটি বিশাল জুটি গড়ে তোলার পর সেই জুটিকে বড় একটি স্কোরের দিকে টেনে নিয়ে আসার কৃতিত্ব বাকি ব্যাটসম্যানদের। সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন মোহাম্মদ মিঠুন।

এই আবাহনীর বিপক্ষে শেরে বাংলায় প্রথম লেগে কিন্তু টস জিতে আগে ফিল্ডিং করেই শেষ হাসি হেসেছিল নাইম ইসলামের দল। ওই ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নামা মোসাদ্দেকের আকাশী-হলুদ বাহিনী অলআউট হয়ে গিয়েছিল ১২২ রানের (৩৮.১ ওভারে) মামুলি স্কোরে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, শুধু ওই ম্যাচেই নয়। প্রায় সব খেলাতেই আবাহনীর টপ অর্ডাররা ব্যর্থ। শুরুটা প্রায় ম্যাচেই ভালো হয়নি। বেশিরভাগ ম্যাচেই আবাহনীর টপ অর্ডার যেন ‘বালির বাধ।’ প্রতিপক্ষের টাইট বোলিংয়ে ভেঙ্গে গেছে।

এমনকি আগের মাচে প্রাইম ব্যাংকের ২২৬ রানের মাঝারি স্কোর তাড়া করতে গিয়েও আবাহনীর শুরুটা ভাল হয়নি। সৌম্য সরকার শূন্য রানে ফিরলে উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গে ৬ রানে। ৫৫ রানে খোয়া যায় তিন উইকেট।

সেটাই শেষ নয়। শেষ তিন চার খেলার একটিতেও আবাহনীর সূচনা ভাল হয়নি। মোহামেডানের সাথে এই বিকেএসপিতে সুপার লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩০৪ রানের বড় সড় স্কোর গড়লেও শুরুতে দুই ওপেনার জহুরুল (৪) আর সৌম্য (১৭) ফিরে গিয়েছিলেন ৩২ রানেই।

প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত শেরে বাংলায় ১ রানে প্রথম উইকেট আর ১২ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ২৫১ রানের লড়িয়ে পুঁজি গড়ে শেষ অবধি মোসাদ্দেকের দল জয় পায় ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে।

কাজেই লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জ টিম ম্যানেজমেন্ট বিশেষ করে কোচ আফতাব আহমেদ আর অধিনায়ক নাঈম ইসলাম হয়তো ধরেই নিয়েছিলেন আবাহনীর টপ অর্ডার ভাঙ্গা-চোরা। শুরুতে আঘাত হানতে পারলে হয়তো প্রথম লেগের মত কম রানে বেঁধে ফেলা যাবে।

কিন্তু হলো উল্টোটা। সুপার লিগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে ‘ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি’ উইকেটে চাপমুক্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে আগে ব্যাট করতে নেমে এবার আর ব্যর্থতার ঘানি টানেননি আবাহনীর ফ্রন্টলাইন ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার সৌম্য সরকার (৭৯ বলে ১০৬) আর জহুরুল ইসলাম অমি (৮৩ বলে ৭৫) উদ্বোধনী জুটিতে শুভাশিষ, নাবিল সামাদ, তাসকিন আর মোহাম্মদ শহীদকে এটুকু চেপে বসার সুযোগ না দিয়ে উইকেটের সামনে, দুদিকে ও পিছনে ইচ্ছেমত বাহারি শটস খেলে ১৬৯ রানের (২৪.২ ওভারে) বিরাট জুটি গড়ে আবাহনীকে গড়ে দিয়েছেন সুদৃঢ় ও শক্ত ভিত।

এরপর মোহাম্মদ মিঠুন (৩৪ বলে ৬৪), ওয়াসিম জাফর (৩৯ বলে ৪৬) আর সাব্বিররা (২৪ বলে ৩৩) সৌম্য ও জহুরুলের সাজানো গোছানো পথে হেঁটে আবাহনীকে পৌঁছে দিয়েছেন অনেক দুরে। ৫০ ওভার শেষে আবাহনীর রান ৩৭৭ ।

এআরবি/আইএইচএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :

এই বিভাগের সর্বশেষ