EN
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

কাশ্মীরের হৃদয়বিদারক সে ছবি নিয়ে যা বললেন আফ্রিদি

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২০

কি হিংস্রতা, কি নির্মমতা! বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কাশ্মীরের হৃদয়বিদারক এক ঘটনার ছবি নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। এক ছবিতে দেখা যায়, রাস্তায় পড়ে রয়েছে দাদার রক্তাক্ত মরদেহ, তার বুকের ওপর বসে কাঁদছে তিন বছরের নাতি। ওই ঘটনারই আরেক ছবিতে মৃত দাদাকে রেখে ভারতীয় সৈন্যের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায় শিশুটিকে।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে। আর এ মর্মান্তিক এ দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে ভারতশাসিত কাশ্মীরে। কাশ্মীরিদের পক্ষে বলার যেন কেউ নেই। বিশ্ব বিবেক আজ নিশ্চুপ।

তবে পাকিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি বরাবরই সরব কাশ্মীর ইস্যুতে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্রিকেট তারকা ভাইরাল হওয়া ছবিটি নিয়েও সরব হলেন।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনার ছবি দেখে স্তম্ভিত আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে কমেন্ট করেন, ‘একটি শিশুকে দেখা যাচ্ছে তার দাদার গুলিবিদ্ধ লাশ ও অস্ত্রধারী সৈন্যের মাঝখানে। কি নির্মমতা! কাশ্মীরিদের দুর্দশার চিত্র আসলে কোনো ছবি দিয়ে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।’

নিহত ৬৫ বছর বয়সী কাশ্মিরী নাগরিকের নাম বশির আহমেদ খান। যদিও পুলিশ দাবি করছে, হত্যা নয়, বন্দুকযুদ্ধের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এই বৃদ্ধ।

কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক বিজয় কুমার সাংবাদিকদের জানান, সোপোর এলাকার একটি মসজিদ থেকে বিদ্রোহীরা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের ওপর গুলি চালালে দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত ও তিন সদস্য আহত হন।

বিজয় কুমার জানান, বন্দুকযুদ্ধের সময় বশির আহমেদ তার নাতিকে সঙ্গে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেসময় বিদ্রোহীদের ছোড়া গুলিতে তিনি প্রাণ হারান।

তবে পুলিশের এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছে মৃতের পরিবার। বশিরের ছেলে সুহেইল আহমেদ বলেন, ‘আমরা একটা ফোনকল পাই যে, বাবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা সোপোরে গেলে বলা হয়, তিনি ক্রসফায়ারে মারা গেছেন।’

সুহেইলের প্রশ্ন, ‘এটা যদি ক্রসফায়ারই হয় তাহলে মরদেহ গাড়ির ভেতর থাকার কথা। কিন্তু সেটি রাস্তার ওপর এলো কী করে?’

স্বজনদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই বশির আহমেদকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে হত্যা করেছে। এমনকি, ছবি তোলার জন্য তার বুকের ওপর ছোট্ট শিশুটিকে বসতেও বাধ্য করা হয়েছে।

পরে শ্রীনগরে বশির আহমেদের জানাজায় সমবেত হন শত শত মানুষ। এসময় তারা কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

এমএমআর/জেআইএম