এসএ টিভির মালিকের বাসায় অনশন করবেন চাকরিচ্যুতরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

এসএ টেলিভিশনের চাকরিচ্যুত ১৮ জনকে বহাল করা এবং বেতন ও ইনক্রিমেন্ট নিয়মিত করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন টেলিভিশনটির সাংবাদিক-কর্মচারী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতাকর্মীরা।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এরপর পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে তারা জানান, তাদের দাবি মেনে নেয়া না হলে আগামী সোমবার (৯ ডিসেম্বর) এসএ টেলিভিশন মালিক সালাহউদ্দিন আহমেদের বাসায় প্রতীকী অনশন করবেন তারা।

তাদের দাবিগুলো হলো- এসএ টেলিভিশনের আট প্রতিবেদক এবং প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে চাকরিতে পুনরায় বহাল করা। সেইসঙ্গে তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা। এছাড়াও এসএ টেলিভিশনের মালিক ডিইউজের সঙ্গে যে ১৩ দফা চুক্তি করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা।

satv

কর্মসূচি ঘোষণা করে ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, ‘আগামী সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় এসএ টেলিভিশনের মালিক সালাউদ্দিন সাহেবের বাড়ির মধ্যে আমরা প্রতীকী অনশন করব। চাকরিচ্যুত ১৮ জন সাংবাদিককে নিয়ে আমরা সকলে তিন ঘণ্টার প্রতীকী অনশন করব। এরপর বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় কাকরাইলে অবস্থিত এসএ পরিবহন অফিস ঘেরাও করা হবে। এর মধ্যেও তিনি বাধ্য না হলে তাকে আর রাস্তা দেয়া হবে না। আগামী শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে যতক্ষণ না পর্যন্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পাদিত ১৩ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন না করবেন এবং এই ১৮ জনকে চাকরিতে ফেরত না নেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ডিইউজের অবস্থান এখানে চলবে।’

আবু জাফর সূর্য বলেন, ‘আপনাদের স্বার্থে চুল পরিমাণ ছাড় দেব না। আপনাদের চাকরিতে ফেরত না দিয়ে এ আন্দোলন থেকে ঘরে ফিরব না। কথা দিচ্ছি, আপনাদের স্বার্থে শতভাগ সৎ থাকব।’

ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এসএ টেলিভিশন এই ১৮ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার পাশাপাশি ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। তারা সবাই কারণ দর্শানোর জন্য ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় আজ এই সংকট তৈরি হয়েছে, তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে।’

satv

এর আগেও গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন তারা।

এসএ টিভির ‘খোঁজ’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বাতেন বিপ্লব বলেন, ‘তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হীন উদ্দেশ্যের সঙ্গে আমাদের থাকতে বলেছে। কিন্তু আমরা অনেকেই তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছি, কেন আমরা এ রকম অনৈতিক কাজ করতে যাব? তখনই আমাদের চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আপস করতে পারিনি বলেই আমাদের ১৮ জনকে ছাঁটাই করেছে। এ জন্য মালিকপক্ষকে আমি ধিক্কার জানাই।’

তিনি বলেন, ‘এই ছাঁটাইকে তারা বলছেন- এটা খুবই সামান্য ব্যাপার। সাত বছর কাজ করার সময় ন্যূনতম ইনক্রিমেন্ট না পেয়ে যারা কোনো রকমে দিনাতিপাত করছিল, তাদের যখন ছাঁটাই করা হলো, তাদের জন্য সেটা কতটা অমানবিক, তা হাজার হাজার কোটি টাকার এই মালিকের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।’

satv

দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর এসএ টিভিতে চাকরির পর ছাঁটাই হন প্রডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট শ্যামা। তিনি বলেন, ‘চাকরিচ্যুত হওয়ার দিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত আমরা কাজ করছিলাম। আমাদের হুট করে অ্যাডমিন থেকে বলা হয়, জরুরি তলব। আমাদের হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দেয়া হলো। হতভম্ব হয়ে যাই সেই চাকরিচ্যুতির কাগজ দেখে। একসঙ্গে ১০ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। কোনো কারণ ছাড়াই অব্যাহতি দেয়া হয়। জীবনটা এখানে এসে দাঁড়াবে, সেটা কখনই ভাবিনি।’

এই কর্মসূচিতে এসএ টেলিভিশনের চাকরিচ্যুত সাংবাদিক-কর্মচারীসহ তাদের সহকর্মী, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, সংগঠনের অন্য নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষসহ শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

পিডি/বিএ/জেআইএম