সাংবাদিক হাবীবের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলেন হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫১ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২২
সাংবাদিক হাবীবুর রহমানের শোকসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ

রাজধানীর হাতিরঝিলের সড়কে গভীর রাতে রহস্যজনকভাবে নিহত হন সাংবাদিক হাবীবুর রহমান। তার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও তদন্তকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন। সাংবাদিক হাবীবুর রহমানের অকাল মৃত্যুতে এ শোকসভার আয়োজন করা হয়।

শোকসভায় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হানিফ বলেন, হাবীবের মৃত্যু নিয়ে আপনাদের মনে যে দ্বিধা আছে, সেটা দূর করার জন্য খুব দ্রুতই এর তদন্ত হওয়া উচিত। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো, যেন দ্রুত তদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও মামলার তদন্ত রিপোর্ট যেন দ্রুত দেওয়া হয়, আমরা সে ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবো। আমি চাই এই তদন্ত হোক। কিন্তু সাংবাদিক নেতাদের প্রতি আমার অনুরোধ, সঠিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনো প্রকার অতিরিক্ত কথাবার্তা ও আলোচনা না হয়। আপনারা আপনাদের সহকর্মীদের নিয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, হাবীবের জন্য শোকসভা করতে হবে, এটা কখনো ভাবিনি। হাবীব আমাকে সবসময় ফোন দিতো। সবসময় যেমন হাসিখুশি ছিল, তেমনই তার ছিল খুবই দায়িত্ববোধ। যেকোনো ইস্যুতে হাবীব আমাকে ফোন করে দলের বক্তব্য জানতে চাইতো। দু-একদিন পর পরই আমাকে ফোন করতো। রাজনৈতিক অঙ্গনের এমন কোনো ব্যাপার ছিল না, যা জানার আগ্রহ হাবীবের ছিল না।

হাবীবুর রহমানের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে হানিফ আরও বলেন, তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া আজ আমাদের কিছু করার নেই। প্রধানমন্ত্রী একজন কর্মীবান্ধব ও সাংবাদিকবান্ধব রাজনৈতিক নেত্রী। প্রধানমন্ত্রী থাকতে আপনাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনারা যে দাবি তুলেছেন, তার ভাই ও স্ত্রীকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার, আমরা সেটার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, শুধু হাবীব নয়, যেসব সাংবাদিক কাজ করে যাচ্ছেন, আমরা সবার পাশে থাকার চেষ্টা করবো এবং থাকবো।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাখাওয়াত মুন বলেন, আমরা হাবীবকে ভুলে যাব না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন সাংবাদিকবান্ধব মানুষ। আমরা সবাই মিলে হাবীবের পরিবারের পাশে থাকবো।

শোকসভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, আমরা সবাই বলি, হাবীবের মৃত্যু নিয়ে সঠিক তদন্ত করে বের করা দরকার। তার মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি হত্যাকাণ্ড এ প্রশ্ন তো আমরা প্রথমদিন থেকেই করে আসছি। কিন্তু আমরা কী কোনো কাগজে স্পষ্ট করে সেকথা লিখেছি। আমরা কী খবরে সেটি প্রচার করেছি। আমরা তো লিখনির মাধ্যমে গণমাধ্যমে সেটি প্রকাশ করছি না।

সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, আমরা যারা বলছি হাবীব আমার বন্ধু, আমাদের সহকর্মী। আমরা যদি তাকে ভালো রাখতে চাই, তাহলে আমাদের তার পরিবার, তার উত্তরসূরিকে ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে। ভবিষ্যতে তার পরিবার ও উত্তরসূরির যদি কোনো সমস্যা হয়, আমাদের উচিত তাদের দায়িত্ব নেওয়া ও পাশে দাঁড়ানো।

গত ১৯ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিলে ‘মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়’ নিহত হন হাবীবুর রহমান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ঘটনার পর পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরেপ্রেক্ষিতে ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটি মনে করছে, হাবীবুর রহমানের মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের হাবীবুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করে রিপোর্টের মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান ডিআরইউ নেতারা।

এমআইএস/কেএসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]