‘আমার ছেলের মতো আর কোনো সাংবাদিক যেন প্রাণ না হারায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৫ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২২
ডিআরইউতে ছেলের শোকসভায় বাবা পেরা মিয়া

‘আমার ছেলের মতো আর কোনো সাংবাদিক যেন প্রাণ না হারায়। বাবার কাঁধে ছেলের লাশ যে কতোটা কষ্টের, তা আপনারা কেউ বুঝবেন না।’

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সাংবাদিক হাবীবুর রহমানের মৃত্যুতে শোকসভায় এ কথা বলেন তার বাবা পেরা মিয়া। ছেলের কথা বলতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। এসময় তার সঙ্গেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শোকসভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা।

পেরা মিয়া বলেন, ‘আমি চিন্তা করতাম, আমার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আমার ছেলে বলবে, বাবাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু আজ ছেলের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আমার নিজেকেই সেই কথা বলতে হলো। আমার ছেলে যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যদি কোনো পাওনা থাকে, তবে আমাকে জানাবেন।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বড় আশা করে ছেলেটাকে কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করেছিলাম। কিন্তু ছেলে আমার আগেই চলে গেলো। আমার ছেলেকে আপনারা সবাই ক্ষমা করে দেবেন।’

শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাখাওয়াত মুন।

এছাড়া ডিআরইউ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১৯ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিলে ‘মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়’ নিহত হন হাবীবুর রহমান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ঘটনার পর পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটি বলছে, হাবীবুর রহমানের মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের হাবীবুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করে রিপোর্টের মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান ডিআরইউ নেতারা।

এমআইএস/জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]