ঈদেও ব্যস্ত গণমাধ্যমকর্মীরা


প্রকাশিত: ০৬:০৯ এএম, ২৬ জুন ২০১৭
ঈদেও ব্যস্ত গণমাধ্যমকর্মীরা

পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যরা যখন ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত, গণমাধ্যমকর্মীরা তখন ব্যস্ত মানুষকে খবর পৌঁছে দিতে। ঈদের জামাত, সারা দেশে ঈদ উৎসবসহ নানা খবর সংগ্রহ এবং পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যস্ত সংবাদের মানুষরা।

ঈদে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও খোলা থাকে অনলাইন গণমাধ্যম, টেলিভিশন চ্যানেল ও জাতীয় পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণ। ঈদে তাই অধিকাংশ সংবাদকর্মীর ছুটি মেলে না। ঈদে নিজেরা আনন্দ করতে না পারলেও অন্যের খুশির খবর তারা ঠিকই পৌঁছে দিচ্ছেন সবার কাছে।

গ্রামে মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করার ইচ্ছে থাকলেও দায়িত্বই বড় হয়ে উঠে গণমাধ্যমকর্মীদের। ঢাকায় থেকেও স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ঈদের সকালটুকুও উপভোগ করতে পারেন না তারা। অন্যের ঈদ আনন্দের সংবাদ প্রচার করেই দায় মুক্তি সাংবাদিকদের। নিজেদের নিয়ে ভাবার সময় কোথায়?

জাতীয় ঈদগাহে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কথা হয় একটি অনলাইন পত্রিকার প্রতিবেদক আহসান কবিরের সাথে। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা শুধু চাকরি নয়, একটু বেশি কিছু। ঈদ এলে তা বোঝা যায়। সারা দেশ যখন ঈদ আমেজে তখনও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে অফিস অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করতে হচ্ছে।

আরেক অনলাইন পত্রিকার প্রতিবেদক শামিম রিজভী বলেন, সকালে জাতীয় ঈদগাহের সংবাদ কভার করেছি। শরীরটা বেশ খারাপ। তবুও অফিসের কাজ করতে হচ্ছে। কাজ শেষে বাসায় ফিরবো। মা-বাবা, ভাই-বোনকে সময় দিবো।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদক সাইফুল ইসলাম নয়ন বলেন, ফজরের আজান দেওয়ার পরপরই তৈরি হই জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতের নিউজ কভার করার জন্য। সারাদিন নানা অ্যাসাইনমেন্টে ব্যস্ত সিডিউল।

একটি নিউজ পোর্টালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ইমরান আলী বলেন, অফিসের কারণে এবার বাড়ি যেতে পারিনি। স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় এবারের ঈদ। দুপুর ১২ টা থেকে অফিস ডিউটি শুরু। এ রকম ব্যস্ত প্রত্যেকটি অনলাইন গণমাধ্যম, টেলিভিশন ও জাতীয় পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণের কর্মীরা।

এ রকম কথা হয়তো সব সংবাদকর্মীর কাছে জমা হয়ে আছে। পরিবার-স্বজন ছাড়া নিজ নিজ অফিসে, হোক সে ছোট পরিসর, ঈদ উদযাপন করছেন সংবাদকর্মীরা। সংবাদমাধ্যম সংবাদিকদের কাছে খুব আপন জায়গা, পরিবারের মতো। ঈদে একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেন।

আজ ঈদের দিন সকাল থেকে জাগো নিউজের সহকর্মীরাও একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন এবং সেই সঙ্গে চলছে পাঠকদের কাছে সর্বশেষ সংবাদ পৌঁছে দেয়ার ব্যস্ততা। শুধু চাকরির খাতিরেই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের প্রতি দরদ, পেশার প্রতি দায়িত্ববোধ আর ব্যক্তিগত ত্যাগের কারণেই অফিসটা তাদের কাছে হয়ে উঠেছে পরিবার।

জেইউ/এআরএস/এমএস