অর্থমন্ত্রীকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাংবাদিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৭

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিকরা। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এ আল্টিমেটাম দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ।

নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা, ওয়েজবোর্ড নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।সমাবেশে শাবান মাহমুদ বলেন, ডিইউজে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি অর্থমন্ত্রী তার আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা না চান এবং আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করা না হয় তাহলে ১৬ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকরা দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।এর মধ্যে প্রথম এক ঘণ্টা আলোচনা ও পরের এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করা হবে। আমরা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারে তাকে বাধ্য করব।

নবম ওয়েজবোর্ড নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, আপনি সাংবাদিকদের রাবিশ বলে অপমান করেছেন। আপনি যদি এই বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, তাহলে আমরাও আপনাকে রাবিশ বলতে বাধ্য হব। নবম ওয়েজবোর্ডের দাবি মানা না হলে আমরা আদায় করে নেব।প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, সাংবাদিকদের বেতন শুরু হয় ১২ হাজার টাকা থেকে, আর সরকারি চাকরিতে বেতন শুরু হয় ২২ হাজার টাকা থেকে। আপনি বলেছেন দেশে এতো পত্রিকা, টেলিভিশনের দরকার নেই! আমরা বলতে চাই সব টেলিভিশন, পত্রিকা তো আপনারাই অনুমতি দিয়েছেন। তাহলে আপনারা কেন অনুমতি দিয়েছেন?

এ সময় তথ্যমন্ত্রীর 'মালিকরা পত্রিকার নাম না দেয়ায় ওয়েজবোর্ড গঠন করতে পারছি না' বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শ্রম আইনে তো এ কথা বলা নাই যে, নাম ছাড়া ওয়েজবোর্ড গঠন করা যাবে না। আপনি জাতির সঙ্গে মিথ্যা কথা বলছেন, প্রতারণা করছেন।

সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের এই কর্মসূচি আপনাদের স্বার্থে, মর্যাদা রক্ষার জন্য, আপনাদের যিনি অপমান করেছেন তার বিরুদ্ধে জবাব দেয়ার জন্য। তাই আপনারা আমাদের যেকোনো কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তা সফল করবেন।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী, বিএফইউজের যুগ্ম সম্পাদক অমিয় ঘটক পুলক, সাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান মিয়া, সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সঙ্গে এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, 'সাংবাদিকদের কোনো ধরনের ওয়েজবোর্ডের প্রয়োজন নেই। তাদের বেতন নির্ধারণ বাজারের উপর ছেড়ে দেয়া উচিত। আজকের বৈঠকে বুঝেছি সরকারি চাকরিজীবীদের তুলনায় সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের বেতন বেশি। সুতরাং, ওয়েজবোর্ড রাখাটা আননেসেসারি'।

এএস/এমএমজেড/ওআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :