জাতি গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম টেলিভিশন : তথ্যমন্ত্রী

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯

জাতি গঠনে টেলিভিশন অনন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বিশ্ব টেলিভিশন দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়ায় ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

‘কেমন আছে দেশের টেলিভিশন’ শীর্ষক আলোচনায় হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শিশু-কিশোরসহ পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর টেলিভিশনের প্রভাব ব্যাপক। যে মাধ্যমের এতবড় প্রভাব, সেটিকে আমরা জাতি গঠনের কাজে লাগাতে পারি। নতুন প্রজন্মের মনন তৈরি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের ঠিকানায় দেশকে পৌঁছাতে মেধা, মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠী তৈরির সক্ষমতা টেলিভিশনের রয়েছে।’

‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে আত্মপ্রত্যয়, দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধ ও মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরই’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠান তৈরি ও সাজানোর ক্ষেত্রে এ কাজগুলো যদি মাথায় রাখি, তাহলে যে অনুষ্ঠানই আমরা করি, সেটার মাধ্যমেই এ দায়িত্ব পালন সম্ভব।

সমাজের কল্যাণের দিকে দৃষ্টি রাখাকে টেলিভিশনের দায়িত্ববোধের অংশ বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, কিছু বিদেশি চ্যানেলে কীভাবে সংসার ভেঙে যাচ্ছে, পরকীয়া হচ্ছে বা একে অপরের বিরুদ্ধে কূটচাল দিচ্ছে সেটি দেখাতে পারে। কিন্তু দর্শকপ্রিয়তার জন্য আমাকেও সেটিই দেখাতে হবে ‘নট দ্যাট’। সেটির বিপরীতে কি দেখালে জাতি গঠনে কাজে লাগবে, সমাজের কল্যাণ হবে, সেটাই দেখানোর যদি উদ্যোগ নেই তবে সেটি কল্যাণে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি সিরিয়াল দেখাতে অনুমতি লাগবে। কোনো কোনোটি অনুমতি নিয়েছে এবং যারা অনুমতি চেয়েছে, সেগুলো প্রক্রিয়াধীন। সিনেমা মুক্তি পেতে হলে সেন্সর বোর্ডের অনুমতি নিতে হয়। বিদেশি সিরিয়ালের জন্য তো লিখলেই আমরা অনুমতি দিতে পারি না। সেজন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। এটি সেন্সর বোর্ড হবে না, কমিটি হবে। সে কমিটি দেশের আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং জনগোষ্ঠীর কল্যাণ বিচার বিশ্লেষণ করে সিরিয়ালের অনুমতি দেবে।’

টেলিভিশনে চাকরিরতদের মেধাবী উল্লেখ করে তাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টেলিভিশনে যারা কাজ করেন, তাদের চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই, একেবারে নেই তা নয়, তবে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা নেই। যেভাবে থাকা দরকার, সেটি করার জন্য আলোচনার মাধ্যমে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিদ্যমান সম্প্রচার নীতিমালার আলোকে সেটি করা সম্ভব। এ বিষয়ে মালিকদের বিশেষ দায়িত্ব আছে বলে মনে করি।’

নাগরিক টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক দীপ আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডিবিসি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, আরটিভির প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশিকুর রহমান, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান রেজওয়ানুল হক, একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ, সারাবাংলা ডটনেট সম্পাদক সৈয়দ ইসতিয়াক রেজা, চ্যানেল ২৪ এর বার্তাপ্রধান রাহুল রাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. এজেডএম শফিউর আলম ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/পিআর