অগ্রাধিকারে নিবন্ধন পাবে মূলধারার সংবাদপত্রের অনলাইন: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০

‘মূলধারার সংবাদপত্রগুলোর অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে’ বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ‘একই সঙ্গে সংবাদপত্রের সরকারি বকেয়া বিল পরিশোধে আবারও তাগাদাপত্র দেয়া হবে’ বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এ কথা জানান। এ সময় সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে যে, পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের রেজিস্ট্রেশন যাতে সহসাই দেয়া হয়। আমরাও মনে করি, যেসব পত্রিকা বের হয়, বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির যে পত্রিকা বের হয়, সেগুলোর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন দেয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশি তদন্তের প্রয়োজন নেই। কারণ এগুলো অলরেডি তদন্ত করেই মোটামুটিভাবে পত্রিকাগুলো বের হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সনের রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

তিনি বলেন, ‘পত্র-পত্রিকার বিল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে, একেকটি পত্রিকার অনেক বিল। কোনো পত্রিকার ১০ কোটি, ১৫ কোটি, ২০ কোটি টাকা। এরকম করে কয়েকশ কোটি টাকার বিল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দফতরে আটকে আছে। সে বিলগুলো যাতে বিভিন্ন দফতর ছাড় করে। আমরা আলোচনা করেছি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দফতর মন্ত্রণালয়ে একটি তাগিদপত্র দেব। কারণ ইতোপূর্বে কেবিনেট ডিভিশন থেকে সব মন্ত্রণালয় ও দফতরে পত্র-পত্রিকার বিল ছাড় করার জন্য তাগিদপত্র দেয়া হয়ছিল। সেটির আলোকে আমরাও একটি তাগিদপত্র দিয়েছিলাম। সেটা দেয়ার পরে কিছু বিল ছাড়ও হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ বিল বকেয়া আছে, আর যে পরিমাণ ছাড় হয়েছে সেটি খুবই নগণ্য। সেজন্য আমরা আরও একটি তাগিদপত্র দেব। আজকে সবার সঙ্গে আলোচনাক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

বকেয়া বিলগুলো কতদিনের মধ্যে ছাড় হবে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলতে পারে। তবে আমি মনে করি, এ বিলগুলো সহসাই দিয়ে দেয়া প্রয়োজন। এগুলোত দিতে হবে। যেহেতু দিতে হবে এখন করোনাকালে পত্র-পত্রিকায় নানা সংকটে আছে। সুতরাং এখন দিলে সেটি কাজে বেশি লাগবে। সুতরাং দিয়ে দেয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘এ করোনা মহামারির সময় মেইন স্টিমের সব মিডিয়া অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। করোনাকালে সব ধরনের মিডিয়ারই নানা সংকট ছিল। তবে সংবাদপত্রের সংকট অনেকের চেয়ে বেশি ছিল। সংকট থাকা সত্ত্বেও সংবাদপত্রগুলো প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে বিলিও হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, যখনই দেশে কোনো সংকট দেখা দেয় তখন এ ধরনের গুজব রটানোর চেষ্টা করা হয়। মানুষের মাঝে ভয়ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এর বিরুদ্ধেও মেইন স্টিমের গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বড় কথা হচ্ছে- করোনাকালে গণমাধ্যম, সংবাদপত্র এবং সরকার একযোগে কাজ করেছে। ফলে এ সময় গুজব রটানোর চেষ্টা করা হলেও সেটি হালে পানি পায়নি।’

এ সময় সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, ‘মূলত অনলাইন মিডিয়াটা নিয়ে সংকট ছিল। সে সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করবে, নতুন আইনের পর সেটা কত দ্রুত করা যায় সে বিষয় নিয়ে আমাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করার পর মন্ত্রী আশ্বস্ত করলেন দ্রুত এই সংকট নিরসন হবে এবং মূলধারার পত্র-পত্রিকাগুলোর অনলাইন দ্রুত নিবন্ধন দিয়ে দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম তো একটা আইনের আওতার মধ্য থেকে অনুমোদন নিয়ে থাকি সংবাদপত্রের। সেখানে নতুন করে আবার তদন্ত সম্পন্ন হলো। আবার দীর্ঘ সময় যাতে অতিক্রম করতে না হয়, সে কারণে আমার প্রস্তাবনা ছিল দ্রুততম সময়ে করার জন্য। মন্ত্রী সেটা আশ্বস্ত করেছেন যে দ্রুততম সময়ে আমাদের অনলাইনের অনুমোদন দিয়ে দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদপত্র বা মিডিয়া সারা পৃথিবীতে একটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। বাংলাদেশের সংবাদপত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি মিডিয়া একটা কঠিন সময় অতিক্রম করছে। সেই জায়গাগুলো আমরা আলোচনা করেছি। তিনি (তথ্যমন্ত্রী) পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি রাখে। সে জায়গা থেকে তিনি বললেন, যেখানে যে সংকটগুলো থাকে সেটা সমাধানে তিনি সচেষ্ট থাকবেন এবং আমাদের সহায়তা করবেন। আগামীতে মিডিয়া অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতার আঙ্গিকে বাংলাদেশকেও একইরকমভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আটকে থাকা বিলগুলো দ্রুত ছাড়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

এমইউএইচ/এফআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]