গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষায় সাংবাদিক ঐক্য জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৫ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২০

আমাদের নানা মত থাকতে পারে, নানা পথ হতে পারে; তবে জাতীয় প্রেস ক্লাবকে গণতান্ত্রিক অবস্থায় রাখতে হবে। এখানে যেমন গণতান্ত্রিক স্রোতধারা বয়ে ছিল জাতির নানা ক্লান্তিকালে, আজও আমাদের সে ধারা রক্ষা করতে হবে। এখান থেকে যেমন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রামের দিকনির্দেশনা এসেছে আমাদের সেটাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি আমাদের নানা মত ভুলে পেশাগত দায়িত্বের জায়গায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, তবেই সংকট, সমস্যা নিরসনে সমাধান আসবে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৬৬ বছর ও বাংলাদেশের সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন দেশবরেণ্য সাংবাদিকরা।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, এখনও প্রেস ক্লাব মানুষের অগাধ ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক। এজন্যই এখানে সভা-সেমিনার, মানববন্ধন করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। আমাদের এ ক্লাবের যে ঐতিহ্য সেটাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রেস ক্লাবের নতুন বিল্ডিংয়ের জন্য কাজ শুরু করেছি মাত্র, এরই মধ্যে জমির দলিল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, এতে আটকে যায় কাজ। তবে আশার কথা হলো ১৫ দিন আগে সব কাগজ হাতে পেয়েছি আমরা, এখন আর কোনো সমস্যা হবে না। আশা করি, কম সময়ে বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্স হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, আমাদের দেশের সাংবাদিকরা এতো ধনি, টাকার মালিক যা ইউরোপ-আমেরিকায়ও নেই। আবার আমাদের দেশের সাংবাদিকরা এতো অসহায়, অর্থ সংকটে থাকেন যা আফ্রিকার কোনো দেশে নেই। এসবের কারণ এখানে সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে, নেতৃত্বের লোভ রয়েছে। এ সুযোগগুলো কাজে লাগাচ্ছেন মিডিয়া মালিক। আমরা কেন এতো দলে বিভক্ত হবো, আমাদের বিভক্তের কারণে মালিকপক্ষকে তেমন চাপ দিতে পারি না। আবার সরকারও চাই গণমাধ্যম শক্তিশালী না হোক, সেটা যে সরকারই হোক না কেন। আমাদের ঐক্য প্রয়োজন যার মাধ্যমে আমরা সবাই সবাইকে সহযোগিতা করতে পারি।

সিনিয়র সাংবাদিক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, আগে আমরা দেখতাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নড়বড়ে তবে শিক্ষা ছিল শক্তিশালী, এখন তার বিপরীত ঘটছে। একই অবস্থা সাংবাদিকতার, গণমাধ্যমের প্রসার ঘটলেও আগের সাংবাদিকতা বা নৈতিকতা নেই। আমাদের প্রিন্ট মিডিয়ার একটা ওয়েজবোর্ড থাকলেও ইলেকট্রিক মিডিয়া কোম্পানির অধীনে। সেখানে আজ কারও চাকরি গেলে কোম্পানি আইনে তার শূন্য হাতে ফিরতে হয়, এটা আমাদের দেখা উচিত। এক সময় গণতন্ত্রের ধারা এখান থেকেই প্রবাহিত হতো নানামত থাকা সত্ত্বেও। আমাদের সেটা ধরে রাখতে হবে, আস্থার জায়গাটা আরও শক্ত করতে হবে। এ সময় তিনি কমিটিকে প্রেস ক্লাবের ইতিহাস লেখারও প্রস্তাব করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান ফারুক বলেন, আজ মিডিয়ার প্রসার ঘটেছে অনেক বেশি। অনেক বেশি অনলাইনসহ অন্যান্য গণমাধ্যম দেখি, কিন্তু ছিটিয়ে-ছড়িয়ে থাকা এই সংবাদ কর্মীকে আমরা কি নার্সিংয়ের মধ্যে আনতে পারছি, এটা দেখার বিষয়। আমরা নিজেরা সাংবাদিক হয়ে গেলাম আর পূর্বসুরিদের জন্য কিছু করতে পারব না, এটা কি করে হয়। আমাদের সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমরা এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একটা স্মরণ সভার মাধ্যমে শুরু করেছি যেটা অত্যন্ত কষ্টের। কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা ১৮ জনকে হারিয়েছি। এখানে আমাদের মিলন ঘটতো, সবাই সবাইকে সম্মানের চোখে দেখতো। এখনও আস্থার জায়গায় কোনো ভাজ পড়েনি এখানে, নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই ক্লাবে। আমরা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিষয় নিয়ে কোনো দিন আপস করিনি আর করতেও চাই না।

আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবন্ধ পাঠ করেন সিনিয়র সাংবাদিক হারুন হাবিব ও আমানুল্লাহ। ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের পরিচালনায় আয়োজিত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য মো. শফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম ও প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক শাহেদ চৌধুরী, মহিউদ্দিন আলম, রাশেদ চৌধুরী, পবিত্র কুণ্ড, কামরুল ইসলাম চৌধরী প্রমুখ।

এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সাংবাদিক নেতারা। সবশেষে কেট কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করা হয়।

এমইউএইচ/জেএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]