ভারতীয় চ্যানেল নিয়ে দেশীয় ক্যাবল অপারেটরদের বিভক্তি অপ্রত্যাশিত

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ ক্যাবল টিভি দর্শক ফোরামের মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন মুন্না এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতীয় চ্যানেল নিয়ে দেশীয় ক্যাবল অপারেটরদের বিভক্তি অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ক্ষিত।

ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (পরিচালনা ও লাইসেন্সিং) বিধিমালা-২০০৬ এর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিধিমালার ৫.৫ ধারায় (১২) বলা হয়েছে, কোনো ডিস্ট্রিবিউটর বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সরকার অনুমোদিত চ্যানেল ব্যতীত নিজস্ব কোনো অনুষ্ঠান যেমন- বিজ্ঞাপন, ভিডিও, ভিসিডির মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো চ্যানেল বাংলাদেশে বিপণন, সঞ্চালন ও সম্প্রচার করতে পারবে না। কিন্তু এর তোয়াক্কা করছেন না দেশীয় অপারেটররা। এতে দেশীয় চ্যানেলগুলোর অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে।

তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে মান ও রুচিহীন অনুষ্ঠান এবং কিছু নিন্মমানের বিজ্ঞাপন। যেসব অনুষ্ঠান বা বিজ্ঞাপন আমাদের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব এবং সামাজিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণহীনতার সুযোগ নিচ্ছেন অনেক অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী। ফলে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি সভ্যতা সংস্কৃতির জন্য হুমকি সৃষ্টি হয়েছে!

বাংলাদেশ ক্যাবল টিভি দর্শক ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন মুন্না আরও বলেন, আমাদের আন্দোলনের ফলে সরকারের পক্ষ থেকে দেশীয় চ্যানেলগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাইম ব্যান্ডে দেয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও অনেক ক্যাবল অপারেটর তা মানছেন না। অপারেটররা বিদেশি অনেক অনুমোদবিহীন চ্যানেল প্রতিযোগিতা করে চালাচ্ছেন। ফলে সম্ভাবনাময় দেশীয় চ্যানেলগুলো দর্শকদের কাছাকাছিই আসতে পারছে না। এতে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর নামই জানেন না অনেক দর্শক। আমাদের চ্যানেলগুলো তাদের পরিচিতি হারাচ্ছে। বিদেশি অনেক চ্যানেল বাংলাদেশে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা আমাদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে কোন মিল নেই। বরং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ছিটেফোঁটাও নেই তাদের অনুষ্ঠানমালায়। এতে দর্শকরা আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারা থেকে অপসংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছেন।

মুন্না মনে করেন, এই দায়ভার থেকে মুক্তি জরুরি। সেজন্য সরকার ও ক্যাবল অপারেটরদের পদক্ষেপ নিতে হবে।

মুন্না তার বিবৃতিতে বলেন, ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে, ভারতে অন্য দেশের চ্যানেল ডাউনলিংক করতে হলে প্রথম ডাউনলিংকের জন্য ৫ কোটি রুপি, সঙ্গে ডাউনলিংকের অনুমতি মঞ্জুরের সময় ১০ লাখ রুপি এবং ডাউনলিংকের জন্য বার্ষিক ফি হিসেবে ১৫ লাখ রুপি প্রতি চ্যানেলকে দিতে হবে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল মাত্র তিন লাখ টাকার টোকেন মানি দিয়ে চালু করা যায়। এছাড়া বেশিরভাগ ভারতীয় চ্যানেল ‘ফ্রি টু এয়ার’ (বিনামূল্যের) হওয়ায় সব চ্যানেল সম্প্রচার করা অত্যন্ত সুবিধাজনক।

বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি ভারতীয় চ্যানেল নির্বিঘ্নে সম্প্রচার হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশের অনেক কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপন ভারতীয় চ্যানেলগুলোতে দিচ্ছে। ক্যাবল অপারেটরদের দ্বন্দ্বের কারণে দর্শকদের জিম্মি করা যাবে না। আমাদের সমাজ সংস্কৃতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং অনুমোদনবিহীন চ্যানেল এখনই বন্ধের দাবি জানাই।

মুন্না বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোর অনুষ্ঠানের মান, ধরন, কম্পোজিশন আন্তর্জাতিক মানের। ভারতে যদি বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো তিন লাখ রুপিতে ডাউনলিংক করা যেত তাহলে বিজ্ঞাপনদাতাদের ভারতীয় চ্যানেলে অধিকমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে হতো না। বাংলাদেশি চ্যানেলেই তারা আরও বেশি করে বিজ্ঞাপন দিতে পারতো। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি দেশীয় চ্যানেলগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হতো। দেশীয় মিডিয়া শিল্প আরও বিকশিত হতো।

মুন্না বলেন, সারাদেশের সব টিভি মালিক, দর্শক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, মন্ত্রী, এমপিরা বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আওয়াজ তুলে এসেছেন। কিন্তু ক্যাবল অপারেটররা বিষয়টি মাথায়ই আনছেন না। সরকারও চান আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক।

এমএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]