মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবিচল ছিলেন আতিকউল্লাহ খান

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২১

পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে উগ্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতেও দেশবিরোধী শক্তির তাণ্ডবলীলা হয়তো দেখতে হবে। দেশে বর্তমানে অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করার ব্যক্তি ও সাহসী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম।

যেমন আমৃত্যু মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন জনকণ্ঠের প্রয়াত সম্পাদক, প্রকাশক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ। তিনি ছিলেন চেতনার বাতিঘর। বঞ্চিত মানুষের আশ্রয়স্থল ছিল জনকণ্ঠ। তার অকাল মৃত্যুতে জাতি একজন লড়াকু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষকে হাড়াল। আগামী দিনে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও লড়াইয়ে তার মতো মানুষের খুবই প্রয়োজন ছিল।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জনকণ্ঠ ইউনিট ও দৈনিক জনকণ্ঠ সাংবাদিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জনকণ্ঠের প্রয়াত সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকউল্লাহ খান মাসুদ স্মরণে আয়োজিত সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালন করায় জনকণ্ঠ সম্পাদকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বাইরে থাকা অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষগুলোকে নিয়ে আগামী দিনগুলোতে এগিয়ে চলার আহ্বান জানান তারা।

স্মরণসভার শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকউল্লাহ খান মাসুদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যতম প্রতিষ্ঠান দৈনিক জনকণ্ঠ।

তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের প্রাণ খুলে লেখা ও বলার জায়গা করে দিয়েছেন সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবিচল ছিলেন। অথচ দুঃখের বিষয় হলো তাকে ভুল বুঝিয়ে ভেতরে থাকা একটি দুষ্টচক্র অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী গণমাধ্যমকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাই করেছে।

মূলত এ কারণে আমরা জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে জনকণ্ঠ যেভাবে ভূমিকা পালনের কথা ছিল তা দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, পত্রিকার ভেতরে ষড়যন্ত্রকারীরা যতদিন থাকবে ততদিন এই পত্রিকাটি আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। তারা দৈনিক জনকণ্ঠকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ছাঁটাইকৃত কর্মীদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আহ্বান তারা ছাঁটাকৃত সাংবাদিকদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, সাংবাদিকতায় এখন নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে কাজ করা কঠিন। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ড সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, হেফাজতের তাণ্ডব সব মিলিয়ে একটি আদর্শিক ধারায় থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ছাড়া ভারসাম্যের সাংবাদিকতার সুযোগ কমে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা আক্রান্ত, তাই সঠিক ধারায় আমাদের চলতে হবে। যেমন চলেছিলেন জনকণ্ঠের সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ। তিনি অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ইস্যুতে কোনো আপস করেননি।

উগ্রবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এ রকম মানুষের খুবই প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, চাকরিচ্যুত সাংবাদিক কর্মচারীরা আজ মালিকের স্মরণসভার আয়োজন করেছেন। মালিকের প্রতি কর্মচারীদের এ রকম ভালোবাসা বিরল।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, জনকণ্ঠের প্রশাসনের ষড়যন্ত্রের শিকার ২৬ জন প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিক। তারাই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে লেখনির মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারেন। যে স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন পত্রিকাটির সম্পাদক।

জনকণ্ঠের ইউনিট চিফ ও সিনিয়র রিপোর্টার রাজন ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট (বোয়াফ) সভাপতি কবির চৌধুরী তন্ময়, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাংবাদিক ফিরোজ মান্না, বিভাষ বাড়ৈ, মিথুন আশরাফ, গাফফার খান চৌধুরী প্রমুখ।

এমআরএম/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]