সাংবাদিক রোজিনার পক্ষে সরব ব্যারিস্টার সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৬ এএম, ১৯ মে ২০২১ | আপডেট: ০২:৫৯ এএম, ১৯ মে ২০২১

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং যুবলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি রোজিনাকে হেনস্তাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (১৮ মে) বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে ব্যারিস্টার সুমন এ আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি চুরির অভিযোগে প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে আটক করা হয়েছে, জেলে প্রেরণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর করোনা শুরুর সময় থেকে আমরা বারবার বলে আসছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করে আসছি, এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ একটা ব্যর্থ মন্ত্রণালয় এবং যতো ধরনের চুরি-চামারি আছে, এই মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই মন্ত্রণালয়ের লোকজন বেশির ভাগই হচ্ছে দুর্নীতিতে একদম আবদ্ধ।’

সুমন বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয়ের পুরোটাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এ মন্ত্রণালয়ের নথি চুরির অভিযোগ তো বুঝতেই পারেন। আরও বড় কথা হচ্ছে রোজিনার বিরুদ্ধে যে নথি চুরির অভিযোগ আনছেন, যদি সে চুরিও করে থাকে, আপনারা তাকে পুলিশে দেবেন, তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন যা ইচ্ছা তা আপনারা করতে পারেন। কিন্তু তাই বলে, আপনারা নিজেরা আইন হাতে তুলে নিলেন।’

‘সাংবাদিক বাদই দেন, সাংবাদিক বাদই দিলাম, একজন নারী হিসেবে তো সম্মানটা প্রদর্শন করতে পারতেন। আইন আপনরা হাতে তুলে নিচ্ছেন। আপনাদের বিচার করার মতো জায়গা বা মানুষগুলা কই।’

ব্যারিস্টার সুমন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মনে রাইখেন, রোজিনারা আজকে দুর্বল। কিন্তু বেশিদিন এরা দুর্বল থাকবে না। আজকে আপনারা যে ক্ষমতা দেখাচ্ছেন। একজন অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি কী একজন দেখলাম আমি জেবুন্নেছা, ওনার ব্যাপারে ফেসবুকে তো দেখতেছি নানা কথা আসতেছে। এগুলো মুখে আনতে চাই না। আরে একজন মহিলা হয়ে, একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীকে আপনি যেভাবে অপদস্থ করলেন, আপনার নিজের মন্ত্রণালয়ের পেয়ে। আরে একজন যদি চুরি করেও থাকে তারে ধরার পরেও তো সম্মানের সাথে আইনের হাতে সোপর্দ করবেন। এটা মেনে নেয়া যায় না।’

সুমন বলেন, ‘আমি মনে করি, এই নারী সাংবাদিককে নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে, অপমান করার মধ্যে দিয়ে, আমাদের যিনি প্রধানমন্ত্রী উনিও তো নারী। তিনি সবসময় নারী এবং শিশুদের কথা বলেছেন, আপনারা প্রকারান্তরে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেই খাটো করেছেন। তার যে এতদিনের কষ্ট, এই যে নারীদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টা, সেই চেষ্টাতে আপনারা কালিমালেপন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আপনারা এত তাড়াতাড়ি পিছপা হবেন না। কারণ আপনাদের সিন্ডিকেট অনেক বেশি শক্তিশালী। সাংবাদিকদের চেয়ে আপনারা অনেক বেশি শক্তিশালী। কারণ, অনেক টাকা বানিয়ে ফেলেছেন তো আপনারা। কারণ এটা হাদিসেই তো আছে, আপনি যখন লুটপাটের একদম চরম পর্যায়ে চলে যাবেন, তখন নারী কী, শিশু কী কোনোকিছু্ই আপনাকে বাধা দেবে না। সারা পৃথিবীটাই তো আপনারা বানিয়ে ফেলছেন।’

এক পর্যায়ে এসে ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘আমি আর কথা বাড়াইতে চাই না। আমি বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই চাওয়া, যে সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তদন্ত করে যারা এটার জন্য দায়ী তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করান। এত বড় একটা সেক্টর, সাংবাদিকদের মনে এত কষ্ট দিয়েন না। কারণ, সাংবাদিকরাই দেশকে এখন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছেন।’

এফএইচ/এমআরআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]