‘তথ্য অধিকার আইন থাকতে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট সাংঘর্ষিক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ২৩ মে ২০২১ | আপডেট: ০৪:৫৭ পিএম, ২৩ মে ২০২১

তথ্য অধিকার আইন থাকা সত্ত্বেও অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট প্রয়োগ করা সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

রোববার (২৩ মে) দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে বিএসআরএফ, বিএফইউজে, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ডিইউজে, ডিআরইউ এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই মতবিনিময় হয়।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে অবাধ তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করেছিলেন। অন্য কোনো সরকার বা সরকারপ্রধান করেননি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে যে সংবিধান রচনা করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে নিরঙ্কুশ করেছিলেন, সেটি বাস্তবায়ন করতেই প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য অধিকার আইন করেছেন। তথ্য অধিকার আইন করার পরে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট প্রয়োগ করা সাংঘর্ষিক।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট যেটি আছে সেখানে সংবাদকর্মীদের ক্ষেত্রে যেন অপব্যবহার না করা হয় সেটি দেখতে হবে। ৫০১, ৫০২ ধারায় এক সময় কিন্তু আসামিকে গ্রেফতার করা যেত। কিন্তু এখন আমাদের ওপর আইন প্রয়োগ করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগে সমন দিতে হবে। সমন যদি না মানে তাহলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে। এটা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চান, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব একজন নেতা। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নন, যখন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন তখনও গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণ ও অধিকারের কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু রোজিনার ঘটনা বা অন্যান্য ঘটনায় যখন সাংবাদিকদের হয়রানি করা হয় তখন প্রশ্ন ওঠে। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, গণমাধ্যমকর্মী আইন দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যেন সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে অপব্যবহার না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি পেজে আনসোর্সড কিছু ভিডিও দেয়া হচ্ছে। এসব ভিডিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভেতরের ভিডিও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভেতর থেকে না দিলে এটি কারও পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু রোজিনার জামিন হয়েছে আমরা একটি সমঝোতার জায়গায় এসেছি সেটি নিয়ে যদি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা যায়। আজকে অনেকেই মিডিয়ার পক্ষে কাজ করছে, আমাদের কাছে তালিকা আছে। সর্বজন শ্রদ্ধেয় জহুর হোসেন চৌধুরীকে মধ্যরাতে জিয়াউর রহমান সাহেবের জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী আতাউদ্দিন খানের মামলায় কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ৫০১, ৫০২ ধারায় সাংবাদিকদের ওয়ারেন্ট জারি হবে না, সমন জারি হবে।

তিনি বলেন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বহু দেশে আছে আমরাও জানি। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে গত ১০০ বছরে চারটি মামলা হয়েছিল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছে এই বলে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাংবাদিকতার মধ্যে সংজ্ঞাগত পার্থক্য আছে। কাজেই সাংবাদিকরা পেশাগত কারণেই তথ্য নেন, এটির একটি সুরক্ষা আছে। আপনি (তথ্যমন্ত্রী) গণমাধ্যমের অভিভাবক হিসেবে আমলাদের এইটুকু বোঝান, সাংবাদিকরা ডিফারেন্ট সোর্সেই আপনাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

এ সময় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি তপন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, অর্থ সম্পাদক মাসউদুল হক, ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের ট্রাস্টি রেজওয়ানুল হক রাজা ও সদস্য সচিব শাকিল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আইএইচআর/জেডএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]