ইসলামে সাম্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হজরত মুহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২১

‘সাম্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। শত্রুরও ক্ষতি করতেন না বরং ভালোবাসতেন। হানাহানি প্রশ্রয় দেননি, সমর্থনও করেননি। তার জীবন একটি খোলাবইয়ের মতো যেখান থেকে সাম্য ও সম্প্রীতিসহ সবকিছুর শিক্ষা নেওয়া যায়। তাকে পৃথিবীর সকলের নিয়ামতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে।’

বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ‘ইসলামে সাম্য ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এ আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভার শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান। তিনি বলেন, হজরত মুহাম্মদকে সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলা হয়। তিনি কখনো ভিন্নধর্মের কাউকে কটাক্ষ করেননি। তিনি সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক। অথচ আজ আমাদের দেশে দেখি নানা সাম্প্রদায়িক বৈপরীত্য। এসব ইসলাম সমর্থন করে না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, তার (হজরত মুহাম্মদ) জীবন একটি খোলাবইয়ের মতো যেখান থেকে শান্তি, সাম্য ও সম্প্রীতি সবকিছুর শিক্ষা পাওয়া যায়। সবাই বিভিন্ন মানুষের মতো হতে চায় কিন্তু কেউ মুহাম্মদের মতো হতে চায় না। সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে বলেন, কোরআন মন্দিরে যে রেখেছে তা খুঁজে বের করা উচিত। আবার যারা আগুন দিয়েছে, হামলা করেছে তাও মেনে নিতে পারি না। ভিন্নধর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করা কথা ইসলামে স্পষ্ট করে বলা আছে।

প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, দুনিয়ার মানুষের নিয়ামত হিসেবে আল্লাহ হজরত মুহাম্মদকে পাঠিয়েছেন। কেয়ামত পর্যন্ত কোরআন সংরক্ষণ ও রক্ষার দায়িত্ব আল্লাহই করবেন। কোরআন রক্ষার নামে আগুন, হত্যা এসব কাজ ইসলামের সাথে যায় না। নবীর জীবন ও আদর্শ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, বহু দর্শন বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর চিন্তা ও দর্শন যুগ যুগ ধরে টিকে আছে। মুনাফেকদের থেকে দূরে থাকবে এটি ইসলাম ধর্মেই বলা আছে। আজ যারা ফাসেক ও মুনাফেক তারাই এই বিশৃঙ্খলায় যুক্ত।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ইসলামে সাম্য ও সম্প্রীতির কথা বলা আছে। এটি আমাদের প্রচার করা উচিত। কারণ সাম্প্রতিক যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা সম্প্রীতি নষ্ট করছে। শান্তির ধর্ম ইসলাম সেই শিক্ষা দেয়নি। তাই ইসলামের শিক্ষা আমাদের নেওয়া উচিত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শত্রুরও ক্ষতি করতেন না বরং ভালোবাসতেন। নবীজি ও ইসলাম কোনো হানাহানি প্রশ্রয় দেয় না, সমর্থন করে না। এটা প্রচার করা উচিত।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আইয়ুব ভূঁইয়াসহ প্রেস ক্লাবের সদস্যরা। সভা শেষে দোয়ার আয়োজন করা হয়।

আরএসএম/বিএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]