ডিজিটাল বাংলাদেশে পুরস্কারে ‘উপেক্ষিত’ অনলাইন মিডিয়া

সালাহ উদ্দিন জসিম
সালাহ উদ্দিন জসিম সালাহ উদ্দিন জসিম , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২২
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করেছে

সময়টা তথ্যপ্রযুক্তির। পৃথিবীটা মানুষের হাতের মুঠোয়। ঘরে বসেই মানুষ এখন পুরো বিশ্বের খবরাখবর জানতে পারে। পড়তে পারে টাটকা খবর। ইন্টারনেটভিত্তিক অনলাইন পত্রিকার বিরামহীন তথ্য সরবরাহ সেই সুযোগকে হাতের নাগালে এনে দিয়েছে। করোনা মহামারিকালে ঘরবন্দি দিনগুলোতে দেশ-দুনিয়ার আপডেট সব খবর জানাতে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ফলে ছাপা পত্রিকা ছাপিয়ে পাঠকের ভরসা ও নির্ভরতা বেড়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যমে। অথচ কোনো অ্যাওয়ার্ড ঘোষণার ক্ষেত্রে লেখা আহ্বানে অনলাইন মিডিয়া এখনো উপেক্ষিত।

সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করেছে, যেখানে অনলাইন মিডিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের রিপোর্ট বা আলোকচিত্র/ভিডিওচিত্র জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিষয়টি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকদের প্রতি ‘অবিচার’ বলে মনে করছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, এখন অনেকাংশে ছাপা পত্রিকা বা টেলিভিশনের চেয়ে অনলাইন মিডিয়া (অনলাইন নিউজ পোর্টাল) এগিয়ে। ছাপা পত্রিকার সাংবাদিক, টেলিভিশন সাংবাদিক ও অনলাইনের সাংবাদিক; সবাই একই কাতারের সাংবাদিক। প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে অনলাইন কিন্তু কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।

তবে প্রেস কাউন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে বিজ্ঞপ্তি দিলেও জাগো নিউজের সঙ্গে মৌখিকভাবে বলছে, ‘অনলাইনের রিপোর্ট জমা হলে সেগুলোও বিবেচনা করা হবে।’

আগামী শনিবার (২২ জানুয়ারি) ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক-২০২২’ অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের শেষ দিন। গ্রামীণ সাংবাদিকতা, উন্নয়ন সাংবাদিকতা, নারী সাংবাদিকতা ও আলোচিত্র/ভিডিওচিত্র ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। এজন্য শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে- আবেদনকারীকে যে কোনো সংবাদপত্র বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত প্রতিবেদন বা ফিচারের মূল কপি এবং স্ক্যান করা সফট কপি (সিডি) জমা দিতে হবে।

এর কিছুদিন পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য ‘বজলুর রহমান স্মৃতি পদক-২০২১’ এর জন্য রিপোর্ট আহ্বান করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। সেখানেও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে, সুযোগ রাখা হয়নি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের।

ডিজিটাল বাংলাদেশে ‘অনলাইন মিডিয়া’কে বাদ দিয়ে এভাবে অ্যাওয়ার্ড প্রদান কতটুকু যুক্তিযুক্ত, এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটা সময় শুধু প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছিল। অনলাইন মিডিয়ার স্বীকৃতি ছিল না। এখন তো সরকার অনলাইন মিডিয়ার স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে অনলাইন কিন্তু কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। অনলাইন মিডিয়ার সংবাদ পাঠকের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছে যায়, এটা অস্বীকার করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘পুরস্কার ঘোষণা করলে প্রিন্ট-ইলেকট্রনিকের পাশাপাশি অনলাইন মিডিয়াকেও রাখা উচিত। এটা না হলে কিছুটা হতাশা তো কাজ করবেই। ভবিষ্যতে যারাই এ ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করবেন তারা যেন প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে সমানতালে অনলাইন মিডিয়াকেও যুক্ত করার কথা চিন্তা করেন। ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে সতর্ক হবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

jagonews24বাঁ থেকে ফরিদা ইয়াসমিন, জাফর ওয়াজেদ, মফিদুল হক ও দীপ আজাদ

এ বিষয়ে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনলাইনগুলোর এখনো নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি। এজন্য হয়তো অনলাইনকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। তাছাড়া সব পত্রিকারই নিজস্ব অনলাইন আছে, সেখানে আবেদন করলে নিশ্চয়ই পত্রিকার মাধ্যমে আবেদন করবে। হয়তো আগামীতে অনলাইনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সব অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধন হলেই হয়তো ভবিষ্যতে অ্যাওয়ার্ডের আওতায় আসবে। অনলাইনকে কেউ মাইনাস করতে পারবে না। কারণ আমরাও অনলাইন সাংবাদিকদের পিআইবিতে প্রশিক্ষণ দেই। ভবিষ্যতে সব পুরস্কারের আওতায় আসতে পারে অনলাইন মিডিয়া।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব দীপ আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন হয়। এখন যুগটা অনলাইনের। ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তির উৎকর্ষ যেমন হচ্ছে, তেমনই ছাপা পত্রিকার পাশাপাশি ডিজিটাল গণমাধ্যমও (মাল্টিমিডিয়া নিউজ পেপার বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল) অনেক বেশি এগিয়ে এসেছে। পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বীকৃত অনলাইন গণমাধ্যমকে যুক্ত করেই দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। অন্যথায় এই মাধ্যমে যারা সাংবাদিকতা করছেন, তাদের প্রতি অবিচার করা হবে। তারাও সমানতালে কাজ করছেন, সমানভাবে লড়াই করছেন গণমাধ্যমে। ছাপা পত্রিকার সাংবাদিক, টেলিভিশন সাংবাদিক ও অনলাইনের সাংবাদিক; পেশাগত দিক থেকে সবাই একই কাতারের। বিশেষ করে যারা প্রথমসারির এবং স্বীকৃত অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত।’

এ বিষয়ে প্রেস কাউন্সিলের সচিব (অতিরিক্ত সচিব) মো. শাহ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার তো মনে হয়, ইলেকট্রনিক মিডিয়া বলতে অনলাইনকেও কাভার করে।’

অ্যাওয়ার্ড প্রদান কর্তৃপক্ষ হিসেবে অনলাইনকে বিবেচনা করছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, ‘এখানে কর্তৃপক্ষ হলো কমিটি। কমিটিই বিচার-বিশ্লষণ করবেন। কিন্তু আমার সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হয়, ইলেকট্রনিক মিডিয়া বলতে অনলাইনকেও (অনলাইন নিউজ পোর্টাল) বোঝায়।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট্রি মফিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেরকম কোনো নিউজ বা সিরিজ নিউজ যদি কোনো অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকের থাকে, তারা সে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন। আমরা বিষয়টি বিবেচনা করবো।’

এসইউজে/এমকেআর/এইচএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]