সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ এএম, ০৩ জুন ২০২২
সাংবাদিকদের সুরক্ষায় সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান আর্টিকেল নাইনটিনের

সাংবাদিকদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ২০১২ সালে জাতিসংঘ প্রণীত কর্মপরিকল্পনাটি (প্ল্যান অব অ্যাকশন) সংশোধন করে সময়োপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) আর্টিকেল নাইনটিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার অধিকার প্রসারে বিশ্বজুড়ে কাজ করা এই সংস্থাটি মনে করে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির আলোকে এক দশক পুরনো এই আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনাটি সংশোধন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ডিজিটাল যুগের উত্থান, কোভিড মহামারি, আফগানিস্তানের পটপরিবর্তন, ইউক্রেন যুদ্ধসহ অন্যান্য সমসাময়িক ইস্যু, চাহিদা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা (ইউএনপিএ) বিষয়ক সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কনসালটেশনে আর্টিকেল নাইনটিন এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ১০ম বার্ষিকীতে নেপাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং নেপালি সাংবাদিক ফেডারেশনের সহযোগিতায় ইউনেস্কোর নয়াদিল্লী ও কাঠমান্ডু কার্যালয় যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী (৩১ মে ও ১ জুন) এই পরামর্শ সভার আয়োজন করে।

সভায় বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটান এবং নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই পরামর্শ সভায় সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমে নীতিনির্ধারক, মিডিয়া শিক্ষাবিদ, বিচার বিভাগ এবং আইন বিশেষজ্ঞ, ইন্টারনেট ব্যবসার অংশীজন, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউএনপিএর বর্তমান বাস্তবায়ন অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা গত এক দশকে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ইউএনপিএর বাস্তবায়ন তথা এর প্রধান তিনটি দিক: প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচারের সম্মুখীন করার ক্ষেত্রে সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের ওপর আলোকপাত করেন। একইসঙ্গে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে মানুষের জানার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সঠিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সুপারিশ করেন।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি অবাধ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তি মোকাবিলার জন্য ২০১২ সালে ইউনাইটেড ন্যাশনস প্ল্যান অব অ্যাকশন (ইউএনপিএ) নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর দক্ষিণ এশীয় যোগাযোগ ও তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা হেজকিয়েল দলামিনি বলেন, এই অঞ্চলে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় গত এক দশকে ইউএনপিএর সাফল্য ও চ্যালেঞ্জগুলো খতিয়ে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে এই সম্মেলন, যা কর্মপরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নে সহায়ক হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, ইউএনপিএ তৈরি হয়েছিল ১০ বছর আগে। এরপর নাগরিক সাংবাদিকতার প্রবর্তন, মতপ্রকাশ ও তথ্যের উৎস হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিকাশ, অনলাইন মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে দেশে দেশে আইনি কাঠামো প্রণয়ন এবং কোভিড মহামারি পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন ঘটনায় সাংবাদিক ও যোগাযোগকারীদের জন্য বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে। তাই অবিলম্বে ইউএনপিএ পর্যালোচনা করা দরকার। এটি সংশোধনের মাধ্যমে সময়োপযোগী করার জন্য এখনই সঠিক সময়।

জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ভুটানের নির্বাহী পরিচালক নামগে জাম বলেন, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) ২০২২ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুসারে ভুটান এই অঞ্চলের সেরা স্কোর করে ৩৩তম অবস্থানে রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, কেবল সূচকের মাধ্যমে ভুটানের সাংবাদিক ও যোগাযোগকারীদের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জ প্রতিফলিত নাও হতে পারে। দেশটিতে তথ্য অধিকার বিষয়ে কোনো আইন নেই এবং সাংবাদিকদের জন্য কোনো আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। এমনকি গণমাধ্যমকে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আর্টিকেল নাইনটিন সাংবাদিকদের সুরক্ষা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি কর্তৃক বাস্তবায়িত বৈশ্বিক প্রকল্প ‌‘ইক্যুয়ালি সেফ: টুওয়ার্ডস এ ফেমিনিস্ট এজেন্ডা ফর দ্য সেফটি অব জার্নালিস্টস (FEMSOJ) এর বিভিন্ন দিক অনুষ্ঠানে তুলে ধরে। কেস স্টাডি পরিচালনার মাধ্যমে প্রকল্পটি দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এ বিষয়ে আর্টিকেল নাইনটিনের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার রুমকি ফারহানা বলেন, ইন্টারসেকশনাল জেন্ডার অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিক ও যোগাযোগকারীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক সংলাপ, সমন্বয় কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।

এমওএস/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]