জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপনে গণমাধ্যমের ইতিবাচক পদক্ষেপ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০২২

‘সমাজে নারী ও পুরুষের সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলেই জেন্ডারবৈষম্যের পরিসমাপ্তি অনেকটা দূর করা যাবে। এছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে জেন্ডারবৈষম্য বিলোপ করা সম্ভব। আর জেন্ডারসংবেদনশীল হতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সমন্বতিভাবে কাজ করা জরুরি।’

বুধবার (৩১ আগস্ট) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে ‘গণমাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপন: পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড ও প্রোটেক্টিং ইন্ডিপেনডেন্ট মিডিয়া ফর ইফেক্টিভ ডেভেলপমেন্টের (প্রাইমড) সহযোগিতায় সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্ট (সাকমিড) ও পিআইবি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সাকমিডের উপ-পরিচালক সৈয়দ কামরুল হাসান ও পিআইবির অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক শুভ কর্মকারের সমন্বয়ে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সভাপ্রধান পিআইবি মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে জেন্ডারবৈষম্য বিলোপ করা সম্ভব। তিনি জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপনের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পিআইবি মহাপরিচালক বলেন, সম্প্রচার মাধ্যমগুলো সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করলে জেন্ডারভিত্তিক অসমতা অনেকাংশে বিলোপ করা সম্ভব হবে। এছাড়া সংবাদ প্রচারে পাঠক, দর্শক ও শ্রোতার বিষয়টা মাথায় রেখে সংবাদ প্রস্তুত করতে হবে।

আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম রেজা বলেন, সারাবিশ্বে অর্থনীতির মতো গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হয়। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গণমাধ্যম মনিটারিং বা পর্যবেক্ষণ করা হয় না। অথচ গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপন কার্যকর হতো।

ড. শামীম রেজা জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপনের জন্য শুধু পর্যবেক্ষণের ওপর আলোকপাত করেননি। তিনি গণমাধ্যমগুলোর নির্দেশক, সংবাদের ধরন, প্রশিক্ষণ ও অনেক সময় অভিজ্ঞতার বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে বলেন, এসব বিষয়ের ঘাটতি থাকায় অনেক সময় জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপন হয়।

জেন্ডারবৈষম্য নিয়ে তিনি ৭০ এর দশকের পিআইবির নিরীক্ষার বিভিন্ন প্রকাশনা কথা উল্লেখ করে বলেন, যেখানে জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপনের কলাকৌশল সম্পর্কে আলোকপাত করা হতে। এছাড়া জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক তদারকির ওপর জোর দেন।

গোলটেবিল বৈঠকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিনা ইসলাম অংশ নেন। তিনি মূলত মতামত ও সংবাদের আধেয়ও এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি ছবি, ভিডিও (টেলিভিশন), বাক্যশৈলীর ওপর জোর দেন। পাঠক ও দর্শকের বিষয়টি মাথায় রেখে সংবাদ প্রস্তুত করার কথা বলেন তিনি।

বাংলাভিশনের বার্তা সম্পাদক মোস্তফা কামাল জেন্ডার সংবেদনশীল শব্দ পরিহারের বিষয়ে আলোকপাত করেন। কীভাবে প্রাঞ্জল ভাষায় জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপন করা যায় তা তিনি আলোচনা করেন।

নারী সংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু নারীকে সংবাদে কিংবা প্রচ্ছদে পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি সুফিয়া কামাল ও নূর জাহান বেগমের সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনা করেন। বেগম রোকেয়া পশ্চাৎপদ নারীগোষ্ঠীকে অগ্রসরমান করার জন্য যে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন তার ওপর আলোকপাত করেন। দেশীয় চলচ্চিত্র নারীর অবস্থান নিয়েও কথা বলেন এই সাংবাদিক নেত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রাইমড বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা শিরিন আহসান মৌ গণমাধ্যম ও সমাজে নারীর অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংবাদকর্মীর দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সংবাদ প্রচারের ক্ষেতে ফ্যাক্টচেকের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেওয়ার কথা বলেন।

গোলটেবিল বৈঠকে ১৩ জন সংবাদকর্মী, সাতজন বিশেষজ্ঞ, দুইজন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষকসহ মোট ৩০ জন অংশ নেন।

বিএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।