Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭ | ১৬ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

স্বামীর ‘এক কথায়’ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত আনিকার


আদনান রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার | আপডেট: ০৮:৫২ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার
স্বামীর ‘এক কথায়’ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত আনিকার

স্বামী শামীম হোসেনের জন্য সকালের নাস্তায় আগের দিনের (বাসি) ভাত দিয়েছিল স্ত্রী আনিকা। আগের দিনের ভাত দিতে দেখে চটে ওঠেন শামীম। কিছু না বলে ভাত ফেলে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ান। এর জের ধরেই আনিকার সঙ্গে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন শামীম। এরপরই হয়তো আত্মহত্যা করেন আনিকা। ইতি ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয় ১২ বছরের সংসার জীবনের।
 
শামীমকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ তথ্য জানা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে দারুস সালামের ওই বাড়ি থেকে আনিকার ঝুলন্ত এবং তার দুই সন্তানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত একটি সুইসাইডাল নোটের সুত্র ধরে পুলিশের ধারণা, আনিকা নিজেই দুই শিশু শামিমা ও আবদুল্লাহকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে।
 
রাতে শামীমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। বুধবার সকালে আনিকার মা নাদিরা বেগম বাদী হয়ে শামীমের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা করেন। পরে এ মামলায় শামীমকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানায়, বাসি ভাত দেখে স্ত্রীকে গালমন্দ করছিল। একপর্যায়ে আনিকা তাকে জিজ্ঞেস করে, ‘সকালে কার মুখ দেখে উঠেছিলে?’ উত্তরে শামীম অশ্লীল কথা বলে দোকানে চলে যায়। এরপরই হয়তো আত্মাহুতি দেন আনিকা।
 
দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) ফারুকুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
 
এদিকে মঙ্গলবার রাতে টেলিভিশনে আনিকার আত্মহত্যার খবর শুনে বুধবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছান তার মা-ভাই এবং শ্বশুর-শাশুড়ি। আনিকার মা শামীমের আচার-আচরণের বিষয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে থানায় গিয়ে কোনো পক্ষই মামলা করতে রাজি হয়নি। পরে পুলিশ তথ্যগুলো আনিকার মায়ের কাছে তুলে ধরে।
 
আনিকার ফুপাতো ভাই রশিদুল জাগো নিউজকে বলেন, জানা মতে তাদের মধ্যে খুব মিল ছিল। আনিকা একটু জেদি ছিল। তবে কারো কাছে তা প্রকাশ করতো না, নিজের মধ্যে রাখতো। হাসিখুশি থাকতো।

বর্তমানে শামীম দারুস সালাম থানার হাজতে রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

এআর/এএইচ/এমএস

আপনার মন্তব্য লিখুন...