সার্কের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়নি : প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশিত: ০৯:৫৪ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সার্কের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়নি। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক এখনও জীবিত। এখনও যথেষ্ট কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সময়) কংগ্রেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৪৭তম বার্ষিক সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ায় হারনিসিং রিজিওনাল কো-অপারেশন বিষয়ক একটি ইন্টারেক্টিভ সেশনে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা সম্মেলন স্থগিত হয়েছে এতে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। আমি মনে করি সার্কের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়নি। সার্ক এখনও জীবিত। দারিদ্র্য আমাদের প্রধান শত্রু। দারিদ্র্য কীভাবে বিমোচন করা যায়, সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা দরকার।

তিনি বলেন, ব্যবসা, কানেক্টিভিটি ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। বিসিআইএম, বিবিআইএন, বিমসটেক আঞ্চলিক ফোরামের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নৌপথসহ বিভিন্ন ধরনের কানেক্টিভিটির ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সাফটাকে শক্তিশালী করা ও সার্ক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমেরিকার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়া থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেয়া হবে- এমন আলোচনা বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ ইচ্ছা করলে বিনিয়োগ তুলে নিয়ে যাবে সেটা সম্ভব নয়। এটা খুব সহজ হবে না।

বাংলাদেশের জনশক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পদ হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ট্রাস্ট ফান্ড, অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কারও জন্য অপেক্ষা না করে আমরা নিজেরাই বাস্তবায়ন শুরু করেছি।
 
কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্টে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা হাই টেকনোলজির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে দূষণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়।

তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে আমাদের ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। এটা করতে হলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে আমাদের যেতে হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উৎস থেকে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছি।

পাকিস্তানি এক নাগরিক বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গে তুললে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে তারা (মানবতাবিরোধীরা) যুবক ছিল। তারা ক্রিমিনাল ছিল। আইনের মধ্যে তাদের বিচার করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রেনিল উইক্রিমিসিঙ্গী, ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী নির্মলা সীতারামান ও সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এএসএস/আরএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :