শনাক্তের মধ্যে আটকে আছে জুলহাস-তনয় হত্যার তদন্ত


প্রকাশিত: ০৪:৪২ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয় হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত পাঁচ আসামিকে এক বছরেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি)। হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ওই পাঁচ আসামিকে শনাক্ত করা হলেও তাদের কবে গ্রেফতার করা হবে সে বিষয় জানেন না তারা। আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় চার্জশিট দিতে পারছেন না তদন্ত সংস্থা।

এক বছরেও মামলাটির তদন্তে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশায় ভুগছেন নিহতের পরিবার। মামলার সঠিক তদন্ত হচ্ছে না বলে দাবি করছেন পরিবার।

জানতে চাইলে মামলার বাদী ও নিহত জুলহাস মান্নানের ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন জাগো নিউজকে বলেন, মামলাটির তদন্তের বিষয়ে হতাশ আমাদের পরিবার। দীর্ঘ এক বছরেও মামলাটির তদন্তের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।ভবিষতে এর কোন অগ্রগতি হবে কিনা এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।

জানতে চাইলে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হাসান আরাফাত জাগো নিউজকে বলেন, জুলহাস-তনয় হত্যার সঙ্গে জড়িত পাঁচ খুনিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।তাদের প্রশিক্ষক  রশীদ উন নবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছেন। শরিফুল ইসলাম নামে আরেকজন গ্রেফতার রয়েছে। তিনি খুনিদের অস্ত্র সরবরাহসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে।

তিনি আরও বলেন, খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত পাঁচ আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে মামলাটির চার্জশিট দেয়া হবে। তবে তাদের কবে নাগাদ গ্রেফতার করা হবে সে বিষয় সুনিষ্টি কিছুই বলা যাচ্ছে না।

গত বছরের এ দিনে (২৫ এপ্রিল) চার থেকে পাঁচ দুর্বৃত্ত ‘জুলহাস সাহেবের পার্সেল আছে’ বলে রাজধানীর ধানমন্ডি কলাবাগানের ৩৫ নম্বর বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় জুলহাসের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় ওইদিনই থানার এসআই মোহাম্মদ শামীম বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলাটি দায়ের করেন।

বর্তমানে হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির পুলিশ পরিদর্শক বাহাউদ্দিন ফারুকী। অস্ত্র মামলাটির তদন্ত করছেন ডিবির পুলিশ পরিদর্শক নুরুল আফসার।

হত্যা মামলায় আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য রশীদ উন নবী ভূইয়া ওরফে টিপু এবং শরিফুল ইসলাম ওরফে কেরামত ওরফে সিয়াম  কারাগারে আটক রয়েছেন। এর মধ্যে রশীদ উন নবী ভূইয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

অপরদিকে অস্ত্র মামলায় আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হলেও তিনি জামিনে রয়েছেন।

সর্বশেষ  ৯ এপ্রিল মামলা দুইটির তদন্ত  প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তদন্তকারী অফিসার প্রতিবেদন দাখিল না করায় ৮ মে প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত।

জেএ/ওআর/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :