রামপাল নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক কথা শুনতে চান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী


প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ০৭ মে ২০১৭

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অবৈজ্ঞানিক তথ্য আমরা মানতে রাজি নই। বিজ্ঞানভিত্তিক কথা শুনতে চাই। নরওয়ের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা গ্রিনপিস যে রিপোর্ট বা মন্তব্য করেছে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করি।

রোববার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির এমপি ফকরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

নসরুল হামিদ বলেন, রামপালে যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে তা আলট্রাসুপার ক্লিনিক্যাল টেকনোলজি মেনেই করা হচ্ছে। এ টেকনোলজিতে তৈরি জাপানের লোকাহামা শহর ও ইন্দোনেশিয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে চলছে। সেখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এসব প্রকল্প অন্তত ৫০ বছর ধরে চলে। অথচ আমরা যখন সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং পরিবেশগত ৬০টি বিষয় মেনে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে যাচ্ছি তখন বিভিন্ন মহল তা বাধা দিচ্ছে। আমরা আগামী ৫০ বছরে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছি। তাই কোনো অবৈজ্ঞানিক তথ্য আমরা মানতে রাজি নই। বিজ্ঞানভিত্তিক কথা শুনতে চাই।

তিনি বলেন, ‘নরওয়ে সরকার বা নরওয়ের গ্রিনপিস কেন রামপালে বিদ্যুকেন্দ্র নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য দিচ্ছে তা বলা মুশকিল। তা ছাড়া আমাদের দেশের তথাকথিত  পরিবেশবাদীরা এনিয়ে নানা ধরনের মনগড়া মন্তব্য করেছেন। তাদের নিয়ে আমি বসেছি। কিন্তু তারা বিজ্ঞানভিত্তিক কথা বলছে না। তারা শুনে কথা বলেন, কিন্তু আমি মনে করি এ বিষয়ে পরিবেশবিদদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। যখন পদ্মাসেতু তৈরির কথা হয় তখন অনেকে বলেছিলেন পদ্মা মরে যাবে, পদ্মায় ইলিশ প্রজনন কমে যাবে। অথচ বেড়ে গেছে।’

নসরুল হামিদ বলেন,  রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সময় আমরা তিনটি স্থান নির্বাচন করি। তার মধ্য থেকে আমরা সবচেয়ে নিরাপদ স্থান বাছাই করি। রামপালের যে স্থানে এ প্রকল্পটি হচ্ছে তা সুন্দরবন থেকে অন্তত  ৬৯ কিলোমিটার দূরে। পশুর নদীর পাড় থেকে অন্তত দুই কিলোমিটার দূরে।

উদাহরণ হিসিবে তিনি বলেন, ‘ধরুন কুমিল্লায় বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে আর আপনি বাস করছেন ঢাকায়’। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন গ্রিনপিস বলছে  আগামী ৪০ বছরে এ প্রকল্পের কারণে নাকি ৬ হাজার শিশু বিকলাঙ্গ হবে। কিন্তু এসব বাজে কথা, কোনো সায়েন্টিফিক কথা ছাড়া কোনো কথা গ্রহণযোগ্য নয়। তা যদি হবে তা হলে বিশ্বের প্রায় ৪৬ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলছে কীভাবে। সেখানে কতজন বিকলাঙ্গ শিশু জন্মাচ্ছে। আবার অনেকে বলেছেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তারা এসব কী করে বলেন বোধগম্য নয়।’

এইচএস/জেডএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :