Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, শনিবার, ২৭ মে ২০১৭ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ভারত-বাংলাদেশের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক খুবই জরুরি


বিশেষ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৬:২৯ পিএম, ১৯ মে ২০১৭, শুক্রবার | আপডেট: ১২:১২ এএম, ২০ মে ২০১৭, শনিবার
ভারত-বাংলাদেশের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক খুবই জরুরি

‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শীর্ষক’ এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে আলোচকগণ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ের কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি বর্তমান সরকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দু`দেশের স্বার্থেই শক্তিশালী ও হৃদ্যতাপূর্ণ থাকা খুবই জরুরি।

তারা বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ। সামরিক শাসকরা ক্ষমতায় এসে এ সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটায়। যা দুই দেশের জনগণের কল্যাণের স্বার্থে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে শুক্রবার সিরডাপ অডিটোরিয়াম আয়োজিত আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফায়েকুজ্জামান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কুটনীতিক আতিকুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মো. কাফি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মিজান উদ্দিন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. জিন্নাত ইমতিয়াজ আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান প্রমূখ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেক। মতিউর রহমান লাল্টু ও আবদুল মতিন ভূইয়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

ড. মো. কাফি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা উপহার দিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই দর্শন ও রাজনৈতিক আদর্শ স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু পররাষ্ট্রনীতিতে সংযোজন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়। এ নীতিতে তিনি পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক আতিকুর রহমান বলেন, দখল বা আগ্রাসনের নীতি এখন কোনও দেশই পছন্দ করে না। তাই ভারত স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এ সম্পর্ক মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের যোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্বে এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এক উচ্চমাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু গৃহীত পররাষ্ট্রনীতি আজও বর্তমান সরকার অনুসরণ করছে। এর ফলে সাফল্যও এসেছে অনেক। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করেই বর্তমান সরকার পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চলেছেন। আমাদের স্বাধীন সত্তা, মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান এবং শেখ হাসিনার সাহসী দিক-নির্দেশনার কারণেই বাংলাদেশ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের অবদান বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। এ সম্পর্ক আত্মিক সম্পর্ক, যা ভুলবার নয়। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে হলে আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য, বাণিজ্য- সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে দুই দেশকে এগিয়ে আসতে হবে এবং অমীমাংসিত সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের পথ বের করতে হবে।

ড. আখতারুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর দৃঢ়চেতা পররাষ্ট্রনীতি ও রাষ্ট্রনায়কোচিত দিকদর্শন চিরদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণেই দেশ স্বাধীন হওয়ার অল্প কিছুদিন পরেই ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যা বিশ্বে নজিরবিহীন। আর মর্মান্তিক ১৫ আগস্টের পর দীর্ঘ ২৫ বছর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী মোস্তাক-জিয়া গং এবং স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশকে ২৫ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, ভারতের সাথে তিক্ততা সৃষ্টি করেছে।

এফএইচএস/এমএআর/এমএস

আপনার মন্তব্য লিখুন...