মুক্তিযোদ্ধা আলীমের আত্মহত্যা : প্ররোচনাকারীর শাস্তির আবেদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | আপডেট: ০৬:০০ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৭
মুক্তিযোদ্ধা আলীমের আত্মহত্যা : প্ররোচনাকারীর শাস্তির আবেদন
ফাইল ছবি

দীর্ঘ ২২ বছর আগের ঘটনা। বিচার না পেয়ে কুষ্টিয়া ডিসি অফিস চত্বরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক আব্দুল আলীম। এরপর তার আত্মহত্যার জন্য দায়ী মামলার আসামি শামসুল আলম স্বপন গ্রেফতার হলেও জামিন নিয়ে বের হয়ে এসেছেন। এই স্বপনের শাস্তি চেয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এক লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে মো. আব্দুল জলিল স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে সেই সময়ে বিএনপি সরকারের প্রভাবের কারণে মামলার বিচার হয়নি উল্লেখ করে আজ শনিবার সংসদীয় কমিটির সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে কুষ্টিয়ার আব্দালপুর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলীম বীর প্রতীকের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন স্বপন। আব্দুল আলীম চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির ক্যাডার শামসুল আলম স্বপন হয়রানি শুরু করে। এ অবস্থায় বীর প্রতীক আব্দুল আলীম ১৯৯৫ সালের ১৪ নভেম্বর কুষ্টিয়া সদর থানায় শামসুল আলম স্বপনের বিরুদ্ধে জিডি করেন, যার নং - ৪৯৬। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ‘মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলীম তার নিজ কন্যাকে ধর্ষণ করেছে’- এমন জঘন্য অপবাদ দিয়ে নিজ হাতে আবেদন আকারে লিখে তা প্রশাসনের কাছে জমা দেন শামসুল আলম স্বপন। পরে তা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় সামাজিকভাবে চরম হেয় হয়ে আব্দুল আলীম ও তার নিজ কন্যা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়েও তারা বিচার পাননি। ১৯৯৫ সালের ২ ডিসেম্বর আব্দুল আলীম কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষের সামনে প্রকাশ্যে বিষপানে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর জন্য তিনি শামসুল আলম স্বপনকে দায়ী করে নোট লিখে যান। এ ঘটনায় তখন সারাদেশে ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পুলিশ আসামি শামসুল আলম স্বপনকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া সদর থানায় ১৯৯৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মামলা হয়, যার নম্বর ৫। কিন্ত সরকারি দলের লোক হওয়ায় তিনি অল্পদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যান। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি আব্দুল আলীমের স্ত্রী জরিনা বেগম ও তার সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রাণের ভয় দেখিয়ে আপসনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘বীরপ্রতীক আব্দুল আলীমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী শামসুল আলম স্বপন সবসময় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে অপমান ও অপদস্ত করে আসছে। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিলন উল্লাহ’র বিরুদ্ধেও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নানা অপবাদ ছড়ায়। এ ঘটনায় প্রজন্ম-৭১’সহ বিভিন্ন মহল তাকে গ্রেফতারের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। কুষ্টিয়া মডেল থানায় এ সংক্রান্ত মামলা নম্বর-১৩ । মামলাটি হয় চলতি বছরের ১০ জুলাই।’

‘এর আগে আল মামুন সাগর নামের এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে স্বপন। ওই ঘটনায় সম্প্রতি স্বপনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে কুষ্টিয়া সদর থানা পুলিশ। স্বপন জামায়াত-শিবির, যুদ্ধাপরাধীসহ জঙ্গিবাদে মদদ দিচ্ছে। বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনেও সে বিশেষ ভূমিকা রাখে’ বলে লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। বীরপ্রতীক আব্দুল আলীমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।

এইচএস/জেডএ/আইআই