সাইবার নিরাপত্তায় ৮ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস (অক্টোবর-২০১৭) শুরু হচ্ছে আগামী রোববার থেকে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইবার বিশেষজ্ঞরা গণসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার ঝুঁকি নির্ধারণ ও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তায় জনশক্তি তৈরিসহ সরকারের প্রতি আটটি সুপারিশ পেশ করেছে।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক কাজী মুস্তাফিজ জানান, দেশে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের প্রেক্ষিতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে জাতীয়ভাবে অক্টোবর মাসকে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রমে যতো অগ্রগতি হচ্ছে ততো বেশি সাইবার নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এসময় আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ হাসান জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আটটি সুপারিশ করছেন।

এর মধ্যে রয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা জনসচেতনতা তৈরি, এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গণসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার ঝুঁকি চিহ্নিত, সাইবার নিরাপত্তার কাজে দেশি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দেয়া, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানো ও ইন্টারনেটের আইপি লগ সংরক্ষণে তথ্যপ্রযুক্তি আইন হালনাগাদ করা।

অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল প্রযুক্তিবিদদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের (আইসাকা) ঢাকা চ্যাপ্টার।

অনুষ্ঠানে আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি ওমর ফারুক খন্দকার বলেন, সাইবার নিরাপত্তায় দেশের বিপুল জনশক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজে লাগানো যেতে পারে। এতে তারা সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন টুলস তৈরি করে সেগুলো আন্তর্জাতিকভাবে বাজারজাত করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন সম্ভব।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সাইবার আক্রমণের ঘটনাও ঘটছে। অনেক দেশই ভবিষ্যত সাইবার যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। এ কারণে তারা সাইবার নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ২০১১ থেকে নরওয়ে এবং ২০১২ থেকে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ অক্টোবর মাসকে ‘সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালন করে আসছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০১৬ সাল থেকে এটি পালনের উদ্যোগ নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন। এ বছর সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যলায়েন্সের (এনসিএসএ) সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস-২০১৭ কার্যক্রমের অফিসিয়াল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস ২০১৭ এর প্রতিপাদ্য :

এ বছর সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাসের কার্যক্রমে পাঁচটি পৃথক প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

প্রথম সপ্তাহ : (২-৬অক্টোবর) থামুন! ভাবুন! যুক্ত হোন!

দ্বিতীয় সপ্তাহ: (৯-১৩ অক্টোবর) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে সাইবার নিরাপত্তা।

তৃতীয় সপ্তাহ: (১৬-২০অক্টোবর) আগামীর ইন্টারনেটের জন্য আজকের পূর্বাভাস।

চতুর্থ সপ্তাহ: (২৩-২৭ অক্টোবর) একটি কার্যকরী ও ফলপ্রসূ পেশা হিসেবে সাইবার নিরাপত্তাকে বেছে নিতে চতুর্থ সপ্তাহের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে।

পঞ্চম সপ্তাহ : (৩০-৩১ অক্টোবর) গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো সুরক্ষিত রাখার ব্যাপারে সচেতনতা।

এআর/এএইচ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :