ড্যাফোডিলের ছাত্র হত্যায় সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৪ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৭
ড্যাফোডিলের ছাত্র হত্যায় সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গ্রেফতার

রাজধানীর ওয়ারী থানাধীন টিকাটুলি কেন্দ্রিক ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা মো. জীবন হোসেন ওরফে লিটুকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্চের রুপগঞ্জ থানাধীন রূপসী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩ ব্যাটালিয়ন।

গত ৮ অক্টোবর টিকাটুলিতে নিজ বাসার গলিতে প্রতিবেশীকে বাঁচাতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র খন্দকার আবু তালহা (২২)।

ওই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে এলাকার শীর্ষ ছিনতাইকারী লিটু ও হিরা ও আসলামসহ পাচঁ-ছয়জনের নাম উঠে আসে। সংবাদ মাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশ পায়। ওয়ারী থানা পুলিশও জানায় তালহা খুনে জড়িত সন্দেহে দুই ছিনতাইকারীকে তারা শনাক্ত করেছেন। তাদের তালিকার একজন হচ্ছেন র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার লিটু।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-২ এর মেজর আব্দুল্লাহ আল মারুফ জাগো নিউজকে বলেন, ওয়ারী ও টিকটুলি এলাকায় মূলত বাইরে থেকে এসে ছিনতাইকারী ঘটনা ঘটিয়ে তাকে। সায়েদাবাস টার্মিনাল থেকে ও চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লার যাত্রীরাও ওই এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন।

সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় লিটুর নাম আসায় র‌্যাব তাকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার লিটু ওয়ারী টিকাটুলি এলাকার শীর্ষ ছিনতাইকারী।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, তালহা খুনে জড়িত থাকার বিষয়ে এলাকার ছিনতাইকারী লিটুসহ বেশ কয়েকজনের নাম গণমাধ্যমে উঠে আসে। র‌্যাব ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। তবে ছিনতাইকারী লিটু তালহা খুনের পর গা-ঢাকা দিয়েছিল। র‌্যাব-৩ এর চৌকষ গোয়েন্দা টিম তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতারে সমর্থ হয়।

তিনি বলেন, তালহা খুনে লিটু জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লিটু ছাড়াও এলাকায় আর কারা কারা ছিনতাই কাজে জড়িত তা তদন্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

উল্লেখ্য, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন খন্দকার আবু তালহা। রোববার সাড়ে ৬টার দিকে ওয়ারীর টিকাটুলি কেএম দাস লেনের নিজ বাসা থেকে বের হন তিনি। আশুলিয়া ক্যাম্পাসে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়েই বাসার পাশে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তিনি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তালহা।

নিহত তালহার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়ার দেওড়া গ্রামে। তালহা হোস্টেলে থেকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার আশুলিয়া ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করত। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। তার বাবা আবু রিয়াজ মো. নূর উদ্দিন খন্দকার এক সময় গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। পুরান ঢাকার ইসলামপুরে তার একটি শোরুম রয়েছে। এখন তেল আমদানি-রফতানির সঙ্গে জড়িত।

জেইউ/জেডএ/আইআই