রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জোর দাবি দীপু মনির

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০১ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জোর দাবি দীপু মনির

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি। সোমবার জাতিসংঘ সদর দফতরে এক বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ডা. দীপু মনি বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারকে বুঝাতে হবে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রাখাইন প্রদেশের প্রায় এক মিলিয়ন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজভূমিতে অবশ্যই ফেরত নিতে হবে যার কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যান; সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত মিস প্রমীলা প্যাটেন এবং বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জেনেভা ভিত্তিক মানবাধিকার কাউন্সিলের মিয়ানমার বিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার প্রফেসর ইয়াং হী লী এর সঙ্গে বৈঠক করেন ডা. দীপু মনি।

বৈঠকগুলোতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে এই উদ্বাস্তু সঙ্কটের প্রভাবের কথা তুলে ধরে ডা. দীপু মনি আরও বলেন, জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক মহলকে এ সমস্যা সমাধানে জোর ভূমিকা রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাখাইন রাজ্যের বিপুল সংখ্যক এই বাস্তুচ্যুত মানুষকে আর আশাহত করতে পারে না।

বৈঠককালে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যান তার সাম্প্রতিক মিয়ানমার সফরের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ডা. দীপু মনিকে অবহিত করেন। তার সফরকালে এ সঙ্কটের সমাধানে মিয়ানমারের করণীয় বিষয়ে জাতিসংঘের বিবেচ্য দিকগুলো নিয়ে তিনি মিয়ানমার নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন মর্মে দীপু মনিকে জানান।

এর আগে, সোমবার সকালে জাতিসংঘ সদর দফতরে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত মিস প্রমীলা প্যাটেনের সঙ্গে বৈঠক করেন দীপু মনি। মিস প্যাটেন গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে মিয়ানমার সঙ্কটের সমাধানে যে অ্যাকশান প্লানের কথা তুলে ধরা হয়েছে তার প্রশংসা করেন।

মিস প্রমীলা প্যাটেন বলেন, সম্পদ ও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ যেভাবে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বাগত জানিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের এই অবদান বিশ্ব আজীবন স্মরণ রাখবে। সম্প্রতি জাতিসংঘের ভিকটিম সাপোর্ট ফান্ডে এক লাখ ডলার প্রদান করায় তিনি বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

আলাপকালে মিস প্যাটেন জানান, নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন। প্যাটেন আরও জানান, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের বিশেষ করে নারীদের উপর যৌন নির্যাতন বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। বাংলাদেশ সফরকালে তিনি এ সকল নির্যাতিত নারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন।

কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের ক্যাম্প পরিদর্শনকালে নারীর প্রতি সহিংস যৌন নির্যাতনের যে ভয়াবহ বাস্তব চিত্র দীপু মনি দেখেছেন তা তিনি মিস প্যাটেনের সামনে তুলে ধরেন।

এ ছাড়া সোমবার বেলা ৪টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলী সম্পর্কিত কমিটিতে ফিলিস্তিন পরিস্থিতির উপর আয়োজিত একটি সভায় বক্তৃতা দেন ডা. দীপু মনি। এ সভায় ফিলিস্তিনির সার্বভৌমত্বের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোভাবের কথা উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সর্বদাই পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে দুই রাষ্ট্র সমাধান কাঠামোর ভিত্তিতে একটি স্বাধীন, টেকসই, সুসংহত ও সার্বভৌম প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের ন্যায় সঙ্গত সংগ্রামে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি সরকারি সফরে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।

জেপি/এআরএস/জেআইএম