সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন হতে হবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৫ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০১৭

আগামী জাতীয় নির্বাচন শুধু সব দলের অংশগ্রহণেই আটকে থাকলে চলবে না। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ডি. ওয়াটকিনস।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বারিধারায় হোটেল এসকট ঢাকায় কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত ‘ডিক্যাব টকে’ কথা বলেন রবার্ট ডি. ওয়াটকিনস। এ সময় তিনি গুরুত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে। সেই সঙ্গে সন্তোষ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর উন্নতি নিয়ে।

বাংলাদেশে তিন বছর জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে বৃহস্পতিবার তার মেয়াদ শেষ করলেন ওয়াটকিনস। ডিক্যাব টকয়ে সভাপতিত্ব করেন ডিক্যাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমান।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ নিয়ে মিয়ানমারের অভিযোগ আমলে না নিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ আন্তরিক। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরাতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এ বিষয়ে আশাবাদী থাকতে হবে। অনেক কিছুই ইতিবাচক। সব রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণের জন্য কাজ করছে। তবে অবশ্যই তারা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এখন দেখতে হবে সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী থাকে। রাজনৈতিক দলগুলো থেকে আমরা যে আভাস পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে তারা অংশগ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, তবে আগামী নির্বাচনটি শুধু সব দলের অংশগ্রহণেই আটকে থাকলে চলবে না। এখানে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন হতে হবে। আমরা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছি, যাতে তারা কাজ করতে পারে। এ নিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রকল্পও রয়েছে।

তিনি বলেন, আমার মেয়াদকালে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যারা নির্বাচন দেখভাল করে তাদের নির্বাচনকালীন সমস্যা মোকাবেলার জন্য আরও শক্তিশালী, দক্ষ ও সক্ষমতা তৈরিতে সহযোগিতা করেছি। আমরা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করছি যাতে সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনও তরুণ উল্লেখ করে রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, এ কারণে বেশকিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের এখনও আরও শক্তিশালী করার বিষয় রয়েছে। বাংলাদেশে সুশাসনের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আর এ কারণে জাতিসংঘ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে তারা সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারে। আর এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অনেক ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমকে সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আন্তরিক নয়, মিয়ানমারের এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ আন্তরিক। বাংলাদেশ এ সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ব্যর্থ কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, এটি সত্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিল রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনবার আলোচনায় বসলেও একবারও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রেজ্যুলেশন দিতে পারেনি। কিন্তু রাজনৈতিক চাপ দিতে সক্ষম হয়েছে। তার মতে, রোহিঙ্গা সংকট রাতারাতি সমাধান হবে না। মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা শুধু রাখাইন নয়, গোটা মিয়ানমারের মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এ সংকট থেকে উদ্ধার পেতে।

রবার্ট ডি. ওয়াটকিনস বলেন, জাতিসংঘ চায় রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িতে (মিয়ানমার) ফেরত যাক। শুধু মিয়ানমারের যে কোনো এলাকায় ফিরলে হবে না। তাদের বাড়িঘর তৈরি করে দিতে হবে। তারা যেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে। সেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। তবে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরাতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে রর্বাট ওয়াটকিনস বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুর বিষয়টিতে বাংলাদেশ একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। অনেক প্রতিকূলতা পার হয়ে এসেছে। শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্বের অনেক দেশকেই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের আরও কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন চায় জাতিসংঘ। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। আর এটি বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। এটি একটি জটিল সমস্যা। সেই সঙ্গে অনেক সময় নিচ্ছে এ চুক্তি বাস্তবায়নে। এজন্য অনেক ধৈর্য এবং প্রচুর পরিশ্রমের প্রয়োজন। আর সেই সঙ্গে সব পক্ষকে আপস করতে হবে। আমি মনে করি চুক্তি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের কাছে কর্মপদ্ধতি রয়েছে।

জেপি/ওআর/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :