ঢাকার আরও ১১ খাল উদ্ধারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৪ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭
ঢাকার আরও ১১ খাল উদ্ধারের নির্দেশ

ঢাকার আরও ১১টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতি প্রবাহ অব্যাহত রাখা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ৩৬তম সভায় এ নির্দেশ দেয়া হয়। সভা শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘রামচন্দ্রপুর খাল এবং কল্যাণপুর- খাল উদ্ধার করে এর উভয় পাশে ওয়াকওয়ে করেছি। খাল দুটি যাতে পুনর্দখল করতে না পারে সেজন্য ওয়াসাকে বলা হয়েছে। ১১টি খাল উদ্ধারের জন্য কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।’

জরিপ কাজ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘জরিপ না থাকায় অনেক জায়গা অনেকে দখল করেছে। জরিপ শেষ হলে সারা দেশে পিলার স্থাপনের কাজ শুরু করব। ঢাকার চারপাশে চারটি নদীতে পিলার স্থাপনের কাজ শুরু করেছি।’

যে পিলারগুলো নিয়ে আপত্তি ছিল, সেগুলো যাচাই করে পুনঃস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকায় নদীগুলোতে নয় হাজার ৪৭৭টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘অর্ধেক পিলার নিয়ে আপত্তি ছিল। ২০ শতাংশ আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকীগুলো অব্যাহত আছে। একটু সময় দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান বা কর্মকর্তারা যখন মাঠে যান তাদের ওপর নানা ধরনের প্রভাব সৃষ্টি হয়, এজন্য একটু বিলম্ব হয়। তবে আমরা সকল ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে সীমানা পিলার স্থাপন এবং যেখানে আপত্তি আছে সেখানে পুনঃস্থাপন করব। এ ব্যাপারে কারো সঙ্গে আপোষ করব না। আমরা কিন্তু নদীর সীমানা নির্ধারণ করে স্থাপনাগুলো অপসারণ করব এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।’

‘পিলার অনেকে উচ্ছেদ করায় আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি খুব শক্তিশালী পিলার স্থাপন করতে হবে। যারা পিলার অপসারণ করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া ও উদ্ধারকৃত জায়গা সংরক্ষণে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

নদীর তীরে গড়ে ওঠা শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইটিপি থাকলেও তারা চালু রাখে না জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘পরিবেশের লোক গেলে তারা চালু করে। লোকজন চলে গেলে ফের বন্ধ করে দেয়। অনেক নদী দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান নদী দূষণ করছে তাদের তালিকা পাঠাতে, তালিকা পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ও স্থায়ী সদস্যের মেয়াদ শেষ। নতুন কর্মকর্তা পেলে ইছামতী নদী উদ্ধাধের কার্যক্রম নেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

সব বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা যেন নিয়মিত কাজ করেন সেজন্য তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সাভারের ট্যানারিতেও নদী দূষণ :

সাভারের ট্যানারি থেকে নদী দূষিত হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করবো ট্যানারি থেকে যেন নদী দূষণ না হয় সেই ব্যবস্থা তারা নেবেন।’

তিনি বলেন, ‘সাভারের ট্যানারি থেকে যেন নদী দূষণ না হতে পারে প্রয়োজনে সেখানে কনসালটেন্ট নিয়োগ দেয়া হবে। কাজটি করবে শিল্প মন্ত্রণালয়। আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি বলেছি।’

‘ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেছি। ১৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। ঢাকার চারটি নদীর উভয় পাড়ে ২৮০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে করতে হবে। এটা করতে পারলে কেউ নদী দখল করতে পারবে না।’

শাজাহান খান বলেন, ‘মসজিদ, মাদরাসা, মন্দিরের পাশাপাশি দরবার শরীফও নদীর জায়গা দখল করে হয়েছে। আমরা সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেছিলাম। তারা একমত হয়েছেন, স্থানান্তরের জন্য জায়গা দরকার। আমরা যদি তাদের জায়গা দিতে পারি তাহলে সেগুলো তারা স্থানন্তার করে নেবেন। এজন্য খাস বা সরকারি জমি দেয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

নৌপরিবহন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুস সামাদসহ টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/এআরএস/আইআই