আনন্দ শোভাযাত্রায় ‘বেদনার’ যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

 

মিছিলের আনন্দ আর উল্লাস নগরজুড়ে। দুপুর হতে না হতেই তা মিলছে গিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। আর সেই আনন্দ মিছিল-ই যেন ‘বেদনা’ বাড়িয়েছে নগরবাসীর। তীব্র যানজটে থমকে গেছে রাজধানী। প্রধান সড়কের যানজট গতি কমিয়েছে মহল্লার অলি-গলিতেও। অসহনীয় যানজটে সাধারণ মানুষের দুঃখের যেন অন্ত নেই। যানজট বিড়ম্বনায় নাভিশ্বাস রাজধানীতে আসা রোগীদেরও।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় ঢাকায় আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

শনিবার দুপুর ১২টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উদ্দেশে রওনা দেয় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার সময় আশপাশের সড়ক ১ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অচল হয়ে পড়ে ট্রাফিক পরিস্থিতি।

পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, শোভাযাত্রাটি মিরপুর রোডের রাসেল স্কয়ার দিয়ে কলাবাগান হয়ে সায়েন্স ল্যাব থেকে বাঁয়ে মোড় নিয়ে বাটা সিগন্যাল-কাঁটাবন ক্রসিং হয়ে শাহবাগে যায়। শাহবাগ থেকে ডানে মোড় নিয়ে চারুকলা ইনস্টিটিউটের বিপরীত পাশে ছবির হাট হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।

এর প্রভাবে রাজধানীর ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, সাইন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল, শাহবাগসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজট দেখা দিয়েছে। আধা ঘণ্টার আগে কোনো সড়কের সিগন্যাল ৩০ মিনিটের আগে পার হওয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশ শোভাযাত্রার রুট নির্ধারণ করে দিলেও বিচ্ছিন্নভাবে অন্যান্য সড়ক থেকেও শোভাযাত্রা নিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে যাচ্ছে অনেকে। এতে যানজটে পড়েছে রাজধানীর অন্যান্য এলাকায়ও। বনানী, মহাখালী ও জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে যানজট। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে রামপুরা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে চলছে যানবাহন।

ডিএমপির ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম জাগো নিউজকে বলেন, শোভাযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কিছু সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

এদিকে বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের কারণে তার কার্যালয় থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত সড়কের দু’পাশ ও আশপাশের গলিতে যান চলাচল প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট বন্ধ ছিল। এছাড়াও বন্ধ রাখা হয়েছে শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবনের সড়কের দু’পাশ।

যানজটের প্রভাবে সড়কে নামছে না গণপরিবহন, ভোগান্তিতে পড়ছে জনগণ। রাজধানীর হেয়ার রোডে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক বন্ধ থাকায় বিভিন্ন কোম্পানির বাস ও মিনিবাস বন্ধ করে ওখানে রাখা হয়েছে।

জাকারিয়া নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানান, ধানমন্ডি থেকে হেঁটে পল্টনে এসেছি। একদিক বন্ধ থাকায় অন্যদিকের সড়কে যানজট। বাস নেই। অনেকে রাস্তায় হেঁটে চলাফেরা করছে।

রাজধানীর যানজট নিয়ে ফেসবুকের ট্র্যাফিক অ্যালার্ট গ্রুপেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ঢাকাবাসী। গ্রুপে সবাই ছবিসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের ভয়াবহ যানজটের ছবি পোস্ট করছেন।

সম্প্রতি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। দেশের এমন প্রাপ্তিতে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও শোভাযাত্রায় অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোর, জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

এআর/এমআরএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :