১৫ আগস্ট জাতির জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:১০ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১২:৪১ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটি দেশ মাত্র সাড়ে তিন বছরে গড়ে তোলার পর যখন অর্থনৈতিক অগ্রগতি সূচিত হয় ঠিক তখনই জাতির জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এরপরই জাতির জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।

৭ মার্চের ভাষণের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ৭ মার্চের ভাষণের দিন এ ময়দানে উপস্থিত থাকার। সে কথা মনে হলে আমার মায়ের কথাও মনে পড়ে। ভাষণ দিতে যাওয়ার আগে আমার মা বাবাকে বলেছিলেন, ‘তুমি বাংলার মানুষের মন বোঝ। তোমার মনে যা আসে তুমি তাই বলবে। কারণ তোমার ভাষণের ওপর বাংলার মানুষের ভাগ্য নির্ভর করবে।’

শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ইউনেস্কোতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি উদযাপন করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন বিশ্বে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাষণ আর হতে পারে না। একটা নোট ছিল না, কোনো লিখিতও ছিল না। তার এ ভাষণের পর দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে কী করতে হবে তার সব নির্দেশনা ছিল এ ভাষণে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু তার ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের যে ডাক দিয়েছিলেন তা মানুষ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল। বঙ্গবন্ধু জানতেন পাকিস্তানি শাসকরা কখনই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না।

তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যে পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুর ফাঁসি কার্যকর না করে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ সাড়ে তিন বছরে যখন উন্নয়নের দিকে যাচ্ছিল, যে দেশে একটি পয়সাও রিজার্ভ ছিল না, গোলায় কোনো ধান ছিল না- এসব কিছু অতিক্রম করে দেশকে যখন সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছিল ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এক সঙ্গে চারটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জঘন্য হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যেন কোনো রাজাকার, আলবদর, ইতিহাস বিকৃতকারী, খুনি ক্ষমতায় আসতে না পারে। পদলেহনকারীরা ইতিহাস বিকৃত করার সুযোগ না পায় এ জন্য সবাইকে জাগ্রত থাকতে হবে।

সমাবেশ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সভার শুরুতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) এ ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে কারণে ঠিক বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা হয় অনুষ্ঠান থেকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোতে স্থান পেয়েছে, রাষ্ট্রভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্থান পেয়েছে। এ জন্য আমরা গর্বিত জাতি। যারা এক সময় ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করেছিল, আজ যখন এ ভাষণ ইউনেস্কোতে স্থান পেল তখন তারা মুখ লুকাবে কোথায়? এ ভাষণের জন্য কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। কত মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে। এরপরও মানুষ থেমে থাকেনি।

তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা এ ভাষণ নিষিদ্ধ করতে পারেনি অথচ বাংলাদেশি পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা এ ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল। ইতিহাস থেকে তারা জাতির পিতার নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু তা পারেনি, প্রকৃত ইতিহাস কখনও মুছে ফেলা যায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ স্বাধীনতা। বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। বাঙালি জাতিকে শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করায় ছিল বঙ্গবন্ধুর এ সংগ্রামী জীবন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা দেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছে। এটা জাতির জন্য গৌরবের। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। আল্লাহর রহমতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশ অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে কাজ করছি। আমরা অবশ্যই সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হবো।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ৩২ নম্বর থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হতো সে অনুযায়ী দেশ চলতো। বঙ্গবন্ধু আগেই বাংলাদেশের নাম, জাতীয় সংগীত, পতাকা সব ঠিক করে রেখেছিলেন। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়। পাকিস্তানি শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার কারণে বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এ ভাষণেই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার কথা বলেছেন।’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি তোমরা সব কিছু বন্ধ করে দেবে।’ তিনি ভাষণে মুক্তির সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রামের কথা বলেছিলেন।

এফএইচএস/এএইচ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :