মেয়র হানিফের স্মরণসভায় ঢল নেমেছিল মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৫ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৭

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) নির্বাচিত প্রথম মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে তার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে আজ ছিল মানুষের ঢল।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ মিছিল নিয়ে নগর ভবনে জড়ো হতে থাকেন। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পুরো নগর ভবন জুড়ে মানুষের ঢল নামে।

ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে দোয়া ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও স্বাস্থ্য সেবা উদ্বোধন করা হয়। এর আগে সকালে আজিমপুর কবরস্থানে মেয়র হানিফের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আগামী ১৫ দিনের জন্য বিনামূল্য ঘরে বসে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৪ সালের ১ এপ্রিল ঢাকার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ হানিফ। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর ৬২ বছর বয়সে ঢাকার অ্যাপোেলো হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মোহাম্মদ হানিফ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পান। এ সময় ছয় দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। তিনি ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া ঢাকা ১২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

এএস/এআরএস/আরআইপি