তিন শিশুসন্তান নিয়ে বিধবা মায়ের নিত্যদিনের লড়াই

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৪৮ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৬:৫৬ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭

বৃহস্পতিবার, দুপুর আড়াইটা। রাজধানীতে সচিবালয়ের অদূরে রেলভবনের সামনের ফুটপাতে বসে জীর্ণশীর্ণ চেহারার এক তরুণী মা তার তিন ফুটফুটে শিশুসন্তানকে দুপুরের খাবার খাওয়াচ্ছিলেন। দুটি শিশু জমজ। বয়স আনুমানিক দুই আড়াই বছর। অন্য শিশুটির বয়স আনুমানিক বছর চারেক।

ওই মা এক হাতে এক শিশুর মুখে দুধের বোতল ধরে আছেন অন্য হাতে ভাত তুলে খাওয়াচ্ছিলেন আরেক শিশুকে। পাশে বসা তৃতীয় শিশুটি মায়ের হাতে ভাত খাওয়ার অপেক্ষায় বারবার মায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিল, তাকাচ্ছিল।

mother

এক দরিদ্র মায়ের পরম মমতায় শিশু সন্তানদের মুখে তুলে খাওয়ানোর এ দৃশ্য পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অনেকেই ক্ষণিকের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছিলেন। কেউ কেউ তরুণী মায়ের সামনে কিছু আর্থিক সাহায্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

ওই তরুণীর নাম মমতা। জমজ দুটি শিশুর একজন হাসান আরেকজন হোসেন। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুটির নাম রুপালী।

mother

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মমতা জানান, গত বছর এক গাড়ি দুর্ঘটনায় তার স্বামীর অকাল মৃত্যু হয়। স্বামী বেঁচে থাকতে থাকা-খাওয়ার জন্য কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা করতে হতো না। তার মৃত্যুর পর থেকে প্রতিটি দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়।

মমতা জানান, শিশু সন্তানদের নিয়ে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে থাকেন। হাইকোর্ট মাজার থেকে দেয়া খিচুড়ি কিংবা খাবারই প্রধান ভরসা। এছাড়া প্রতিদিন ফুটপাতে শিশু সন্তানদের নিয়ে বসে থাকেন। কেউ কেউ দয়াপরবশত টাকা-পয়সা দান করেন।

mother

তিনি জানান, তার এক ছেলে বুকের দুধ খায় না। গরিব হলেও ওই শিশুটির জন্য কৌটার দুধ কিনে খাওয়ান। এছাড়া বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রেলওয়ে ভবনের এক কর্মকর্তা দুপুর ও রাতের খাবার সরবরাহ করেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে একটি পলিথিনের ব্যাগে খিচুড়ি দেখিয়ে বলেন, এ যে হাইকোর্ট থেকে খিচুড়ি দিছে, আইজ রাতে এ খাইয়াই চলব। কাল সকালে বাচ্চাগুলোরে কী খাওয়ামু তা জানি না বলে সন্তানদের খাবার খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন মমতা।

এমইউ/জেডএ/জেআইএম