বিষণ্ণ মৎস্য মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১০:২৮ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
বিষণ্ণ মৎস্য মন্ত্রণালয়

পা রেখেই টের পেলাম, যেন বিষণ্ণতায় ছেয়ে রয়েছে চারপাশ। দীর্ঘ করিডোর প্রায় শূন্য খাঁ খাঁ করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কক্ষে কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মোদ্দীপনা হারিয়ে যেন স্থবির হয়ে পড়েছেন। তাদের সদ্য প্রয়াত মন্ত্রী ছায়েদুল হকের নানা স্মৃতি ছুঁয়ে মানব জীবনের অমোঘ নিয়তির ভাবনা যেন সীমাহীন ভাববাদিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সোমবার সকালের দিকে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

chayedul

মৎস্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, মন্ত্রণালয়ের মাঝামাঝি স্থানে ঝুলছে শোকের কালো ব্যানার। ছায়েদুল হকের বসার কক্ষের সামনে এখনও শোভা পাচ্ছে তার নেম প্লেটটি। মন্ত্রীর কক্ষের সামনের কক্ষে বসে আছেন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবদুল আজিজ সরকার ও কম্পিউটার অপারেটর গৌতম ভট্টাচার্য।

আবদুল আজিজ সরকার বলেন, ‘একজন ভালো মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি। অনৈতিক কিছু করার জন্য তিনি কোনো দিন কোনো নির্দেশ দেননি। তার জন্য খুব খারাপ লাগছে।’

chayedul

গৌতম ভট্টাচার্য বলেন, ‘স্যার ছিলেন একজন অন্যরকম মানুষ। আমরাও যদি কখনও অন্যায় কোনো আবদার করতাম স্যার তা মানতেন না।’ বলতে বলতে আর্দ্র হয়ে ওঠে গৌতমের কণ্ঠ।

ছায়েদুল হক সহকর্মীদের কাছে ছিলেন একজন ন্যায়নিষ্ঠ ও সজ্জন মানুষ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ১২ জানুয়ারি যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয় সেখানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছায়েদুল হক।

আরএমএম/এনএফ/এমএস