রংপুরের প্রার্থীরা হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫১ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

আসন্ন রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনের মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনেকেই হত্যাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামি। মামলার বোঝা ঘাড়ে নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারা।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় নাগরিকদের সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সুজনের গবেষণা অনুযায়ী, আসন্ন রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ৪ জন (৫৭.১৪%) ফৌজদারি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এদের মধ্যে আবদুল কুদ্দুছের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং মো. মোস্তাফিজার রহমান ও সরফুদ্দীন আহম্মদের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল।

মামলার দিক থেকে কাউন্সিলর প্রার্থীদের অবস্থা আরও নাজুক। ২১২ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৫২ জনের (২৪.৫২%) বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে। এছাড়াও ৯ জন কাউন্সিলর ৩০২ ধারায় হত্যা মামলার আসামি। বর্তমানে হত্যা মামলার আসামিরা হচ্ছেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. রফিকুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হাসানুজ্জামান, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কামরুল হাসান টিটু, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের এমরাউল হাসান এবং ৩০ নম্বর ওয়র্ডের নূরুজ্জামান জাদু। এছাড়াও অতীতে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শাফিউল ইসলাম, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের খায়রুল ইসলাম এবং ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের নেছার আহমেদ ও ইদ্রিস আলী।

নারী কাউন্সিলর ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং ৩ জনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল।

নির্বাচন কমিশনের হলফনামা থেকে নেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুজন জানায়, ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে মো. সেলিম আখতার ও হোসেন মকবুল শাহরিয়ার এইচএসসি পাস। বাকিরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেছেন। তবে কাউন্সিলরদের মধ্যে ৮১ জন (৩৮.২০%) এবং নারী কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৫ জনের (৩৮.৪৬%) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি’র নিচে। গড়ে সব মিলে মোট ২৮৪ জনের মধ্যে ৩৭.৩২% প্রার্থী এসএসসি পাস করেননি।

সুজন জানায়, প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার আয় অনেক কম। মোস্তফার চেয়ে বিএনপি প্রার্থীর বাবলার আয় অনেক বেশি হলেও তিনি ঋণগ্রস্ত। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা অনুসারে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর কোনো কৃষি জমি নেই। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪৫ লাখ ৯৩ হাজার ১৪০ টাকা। জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে তিন লাখ ৬৪ হাজার ২৭২ টাকা। এছাড়া জনতা ব্যাংকে তার নামে ১৫ লাখ টাকা ঋণ আছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তার ব্যক্তিগত ঋণ আছে ১০ লাখ টাকা।

এ সময় সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা প্রার্থীদের দেয়া হলফনামা থেকে পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো একসঙ্গে করে উপস্থাপন করেছে সুজন। তারা যদি ভুল কিংবা অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দিয়ে থাকে নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে অনুসন্ধান করে এগুলো যাচাইবাছাই করা। একইভাবে সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব আছে এগুলোর সত্যতা যাচাই করা। আমরা রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, আমরা আশা করছি রংপুরে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ব্যালটে মারা কিংবা ব্যালট ছিনতাইয়ের মতো কোনো ঘটনা ঘটবে না বলে আমরা আশাবাদী।

আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র পদে সাত প্রার্থী, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এআর/এআরএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :