পরাধীন থাকলে সংস্কৃতি চর্চা সম্ভব হতো না : সংস্কৃতিমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, আজ আমরা স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে সংস্কৃতি চর্চা করতে পারছি। পরাধীন থাকলে এটি সম্ভব হতো না। এ বাংলাদেশেও ৭৫ পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির কুপ্রভাবে সংস্কৃতি চর্চা নানাভাবে ব্যাহত হয়েছে। তখন বাংলাদেশ বেতারের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ রেডিও করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, উন্নত জাতি গড়তে হলে শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতি চর্চার সমন্বয় জরুরি। উদার, মুক্তচিন্তাশীল ও সংবেদনশীল মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এটি আরও জরুরি।

সোমবার রাতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার যৌথ আয়োজনে “তৃতীয় জাতীয় নৃত্যনাট্য উৎসব ২০১৭“ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী এবং ভাষাসৈনিক ড. এনামুল হক।

প্রধান অতিথি বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চা সাধনার বিষয়, শখের বিষয় নয়। মেধা, শ্রম, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে এটি অর্জন করতে হয়। নতুন প্রজন্মের মাঝে এ ধারণাটি সঞ্চার করতে হবে।

শেখ হাসিনার সরকার সংস্কৃতিবান্ধব সরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সীমিত সামর্থ্য ও সাধ্যের মধ্য দিয়েও আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেশে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশে কাজ করে যাচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অনেক শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। অস্বচ্ছল শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুদান ও ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শিল্পীদের সহায়তার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক ও উদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর হাতিরঝিলে ঢাকা অপেরা হাউস নামে সুবিশাল কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে যা নির্মিত হলে এটি হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে হলে জনবান্ধব বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনঃনির্বাচিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মীনু হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাংস্কৃতিক সম্পাদক নিলুফার ওয়াহিদ পাপড়ি।

উল্লেখ্য, পাঁচ দিনব্যাপী এ নৃত্যনাট্য উৎসব শেষ হবে ২৪ ডিসেম্বর। এবারের এ উৎসব প্রয়াত নৃত্যগুরুমাতা রাহিজা খানম ঝুনুকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

এমইউ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :