কর্ণফুলী নদী খননের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৪:১৪ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭
কর্ণফুলী নদী খননের উদ্যোগ
ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে বাকলিয়া পর্যন্ত কর্ণফুলী নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ২৪২ কোটি টাকা। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়নাধীন কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও সংরক্ষণ কাজের একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে নৌবাহিনী। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪২ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, একই বৈঠকে সেতু বিভাগের আওতায় কন্সট্রাকশন, সাপ্লাই অ্যান্ড ইন্সটলেশন অব অ্যানসিলারি ফ্যাসিলিটিজ ফর রিসেটেলমেন্ট ভিলেজ অব ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিপিপি প্রজেক্ট অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ রাজশাহী-রংপুর বিভাগীয় কার্যক্রম-২ (সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের একটি প্যাকেজের আওতায় ৩টি ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ‘বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতাবর্ধন, পুনর্বাসন ও নিবিড়করণ (রাহশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজের আওতায় ৩৪,৭৪৬ কিলোমিটার কন্ডাক্টর ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ এর আওতায় রূপকল্প-৩ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন কসবা-১, জামালপুর-১, শৈলকুপা-১ তিনটি এক্সপ্লোরেশন ওয়েলস-এর জন্য মাড টেস্টিং অ্যাপারেটারস/ইক্যুইপমেন্ট অ্যান্ড রিএজেন্ট ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বৈঠকে ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের জন্য ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ এর আওতায় রূপকল্প-১ ড্রিলিং প্রজেক্ট এর ৫টি কূপের কার্যক্রমের জন্য হেভি ওয়েট ড্রিল পাইপ এবং ড্রিল কলারসহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ এর আওতায় রূপকল্প-১ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন সালদা নর্থ-১ অনুসন্ধান কূপ খননের কাস্টিং অ্যাক্সেসরিজ এবং লিনার হ্যাংগার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

বৈঠকে ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের জন্য ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর আওতায় রূপকল্প-৫ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন বেগমগঞ্জ-৩ ওয়ার্কওভার কূপের ‘প্রকিউরমেন্ট অব সিমেন্টিং ইউনিট অ্যাক্সেসেসরিজ ফর রূপকল্প-৫ আন্ডার ফরেন এক্সচেঞ্জ’ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

একই প্রকল্পের আওতায় রূপকল্প-৫ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন বেগমগঞ্জ-৩ ওয়ার্কওভারের ‘হায়ারিং অব ওয়্যারলাইন লগিং সার্ভিসেস বেগমগঞ্জ-৩ ওয়ার্কওভার আন্ডার রূপকল্প-৫ ড্রিলিং প্রজেক্ট’ সেবা গ্রহণের লক্ষ্যে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ প্রদানের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে তিন কোটি ৮১ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, বৈঠকে ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের জন্য ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর আওতায় রূপকল্প-৩ শীর্ষক প্রকল্পের অধীন কসবা-১ কূপ খননের জন্য হায়ারিং অব ওয়্যারলাইন লগিং সার্ভিসেস অব কসবা-১ এক্সপ্লোরেশন ওয়েল সেবা গ্রহণের নিমিত্তে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ প্রদানের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ব্যয় হবে চার কোটি ১২ লাখ টাকা।

এমইউএইচ/ওআর/জেআইএম