ফিজিওথেরাপি কাউন্সিল গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩১ এএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

নীতিমালা না থাকায় ফিজিওথেরাপিস্টের বিষয়ে সাধারণ মানুষের তেমন একটা ধারণা নেই উল্লেখ করে ফিজিওথেরাপি কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিউশনে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিত পুনর্বাসন চিকিৎসা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পূর্বে এ দাবি জানানো হয়।

বলা হয়, অনেক চিকিৎসক ফিজিওথেরাপিস্ট না হয়েও ব্যবস্থাপত্রে লিখেন ফিজিওথেরাপি প্র্যাক্টিস করছেন এবং এসব ব্যবস্থাপত্র দেখে অনেকে ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে ভুল ধারণা নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বক্তারা বলেন, কয়েক বছরে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। হাজার হাজার চিকিৎসক নিয়োগ হয়েছে। মা ও শিশুর মৃত্যুর হার কমেছে। দেশে প্রতিনিয়ত ফিজিওথেরাপি সেবার চাহিদা বেড়েছে। সেই সঙ্গে কিছু লোক ফিজিওথেরাপিস্ট সেজে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মানুষের সম্যসাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ফিজিওথেরাপি কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, যেকোনো উচ্চ শিক্ষার জন্য কলেজ প্রয়োজন কিন্তু দুঃখের বিষয় ফিজিওথেরাপি শিক্ষার জন্য এখন পর্যন্ত সরকারি কোসো ফিজিওথেরাপি কলেজ নেই।

সম্মেলনে জানানো হয়, জাপানে প্রতি ১০ জনে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট আছে, বাংলাদেশে প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য একজন আছে কি না সেটাও সন্দেহ। এখন জীবানুবাহিত রোগ কমে হলেও জীবানুবিহীন রোগ বেড়ে গেছে (যেমন- স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কোমর-বাত ব্যাথা ইত্যাদি)। আর এসব রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ফিজিওথেরাপি। বিশাল ফিজিও তৈরির জন্য প্রয়োজন অনেকগুলো ফিজিওথেরাপি কলেজ।

তারা আরও বলেন, সঠিকভাবে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে। আর এভাবে সরকারি নিয়োগ না হওয়া ফিজিওথেরাপিস্টদের মাঝেও বিরাজ করছে হতাশা। নতুনরাও এই পেশায় আসতে ভয় পাচ্ছে। শহরকেন্দ্রিক চেম্বার প্র্যাক্টিস বেড়ে যাচ্ছে এবং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সারাদেশে সাধারণ মানুষের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিতের জন্য সরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহম্মাদ নাসিম উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অটিজম বিষয়ক শুভেচ্ছা দূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল।

এএস/আরএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :