মন্ত্রী হয়েই ইলিশ রফতানির পথ খুলছেন নারায়ণ চন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৭ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮

 

পাচার বন্ধে জাতীয় মাছ ইলিশ রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার পর সোমবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

গত ১৬ ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক মারা যান। পরে গত ২ জানুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। ৩ জানুয়ারি তাকে মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

২০১২ সালের ১ আগস্ট রমজান মাসে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ রফতানি নিষিদ্ধ করে সরকার। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে।

মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইলিশ রফতানির দিকে যেতে চাচ্ছি। আমাদের যেহেতু উৎপাদন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদাও আছে। সে জন্য আমরা কিছুটা রফতানি করতে চাই। রফতানির অনুমতি না দিলেও এ মাছ বিভিন্ন চোরাই পথে চলে যায়। ফলে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় রাষ্ট্র। তাই আমরা যদি রফতানি করি, পথটা যদি ওপেন করে দেয়া হয়, তবে গোপনে যাওয়ার পথ সংকুচিত হবে।’

বাজারে ইলিশের দাম অনেক বেশি, দাম না কমিয়ে কেন ইলিশ রফতানি করতে যাচ্ছে সরকার- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘দাম না কমিয়ে রফতানি করতে চাচ্ছি এ কারণে যে, অবৈধভাবে যেসব মাছ যায় সেগুলো বড় আকৃতির, আমাদের মার্কেটে আসে কম। বড় মাছ ফিরিয়ে আনতে হলে গোপন পথ বন্ধ করে সদর পথ চালু করতে হবে।’

ইলিশ মাছ পাচার নিয়ন্ত্রণে নৌপুলিশ, নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ইলিশ রক্ষার প্রকল্প উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ উৎপাদন ৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।

মাংস উৎপাদনের দিক থেকে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দুধ উৎপাদনে কিছুটা ঘটতি রয়েছে। আমরা আশা করছি দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সেটা পূরণ হবে। কারণ প্রোডাকশনটা বাড়াতে হলে কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়। বাচ্চাকে গাভীকে রূপান্তরিত করতে সময় লাগে।’

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

বিদেশ থেকে গরু আমদানি হবে না
গণমাধ্যমে এসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারত থেকে গরু আমদানি করবে -এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নারায়ণ চন্দ্র বলেন, ‘আমাদের দেশের উৎপাদন যদি চাহিদা পূরণ করতে পারে তবে বিদেশ থেকে কেন আমদানি করব? আমদানি করলে তো আমাদের খামারিরা মার খাবে। আমরা এটা নিশ্চয়ই করব না। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যদি আমরা সাপ্লাই দিতে পারি তবে বাইরে থেকে আনার কোনো প্রয়োজন নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এখন এই ধরনের কোনো অনুমতি দেয়া হবে না।’

জেলেদের স্বাবলম্বী করতে প্রকল্প
উপকূলীয় জেলেরা দাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাজনদের কাছে জিম্মি। তাদের স্বাবলস্বী করতে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কি না -এ বিষয়ে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি আমি নিজেও অনুভব করি। এ বিষয়ে এক হাজার ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাইপলাইনে রয়েছে। এটা হলে তাদের জাল ও ট্রলার দিয়ে স্বাবলম্বী করে দেয়া যাবে।’

এক দিনের মুরগির বাচ্চা নিয়ে সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণ চন্দ্র বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। আমরা এটা জানি, চেষ্টা করছি এটাকে কন্ট্রোলে নিয়ে এসে একদিনের বাচ্চার দাম ন্যায্য পর্যায়ে নিয়ে আসার।’

প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন সময় আছে আট মাসের মতো, সামনে আপনার চ্যালেঞ্জ কী - সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সমুদ্র পেয়েছি, এর স্টাডি চলছে। সাগর থেকে আমরা যাতে মাছ আহরণ করতে পারে সেই জিনিসটা (চ্যালেঞ্জ)। যাতে আমরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে পারি, আমরা সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। এছাড়া আমাদের যে প্রকল্পগুলো আছে সেগুলোর অর্জন টেকসই করা, এগুলো যাতে চালু থাকে, জাতি যাতে উপকৃত হতে পারে।’

আরএমএম/এমএমজেড/আরএস/পিআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :