অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৪০ মাদরাসা শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৬:০২ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮
অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৪০ মাদরাসা শিক্ষক
ফাইল ছবি

মাদরাসা শিক্ষকদের আমরণ অনশন মঙ্গলবার থেকে চলছে। আন্দোলনে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মঙ্গলবার সকাল থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা। রজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে শিক্ষকদের আমরণ অনশন। টানা আটদিন অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে গেলেও শিক্ষকদের দাবি আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তারা এমন কঠিন আন্দোলনে নেমেছেন।

আমরণ অনশনে দ্বিতীয় দিন বুধবার সকাল থেকেই মাদুর বিছিয়ে শিক্ষকরা শুয়ে-বসে আমরণ অনশন করছেন। ‘বেতন দেন নাইলে বিষ দেন’, ‘মা জননী শেখ হাসিনা ক্ষুধার জ্বালায় বাঁচি না’, ‘আর কতদিন কাঁদবো বেতনের জন্য’, ‘প্রাইমারি জাতীয়করণ আমরা কেন হব না’, ‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আর কতদিন’, ‘এক দফা এক দাবি জাতীয়করণ চাই’ এমন নানা স্লোগানে তৈরি ফেস্টুন, মাথায় ব্যাচ পরে বিভিন্ন জেলা থকে আগত প্রায় সহাস্রাধিক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা আন্দোলন যোগ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আলহাজ ক্বারী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, মাদরাসা শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতন জীবন যাপন করছে। তাই বাধ্য হয়ে ঘর-সংসার ছেড়ে টানা আটদিন অবস্থান ধর্মঘটের পর দুদিন ধরে অনশনে নেমেছি।

তিনি আরও বলেন, গত ১০ দিন ধরে আন্দোলনে যোগ দেয়া শিক্ষকদের মধ্যে ৪০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ শিক্ষক নেতা বলেন, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ালেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা না বাড়িয়ে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ আমরা প্রাথমিকের মতোই পাঠদান দিয়ে চলছি। আটদিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট চলার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অমরণ অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। আশা করি অতিসত্বর সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিবেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, লেখাপড়া শিখে শিক্ষকতায় এসেছি। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণের খরচ চালতে পারছি না। রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ করতে হবে।

শিক্ষকরা বলেন, তীব্র শীতের মধ্যে রাস্তায় বসে আন্দোলন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস মিলেনি। অথচ আমাদের পাশেই আন্দোলন করছিলেরন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা আন্দোলন স্থগিত করেছেন। আমরা একই দেশের নাগরিক। তাদের মতোই শিক্ষক। কিন্তু আমাদের দিকে কারও কোনো দৃষ্টি নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি যোগাযোগও করেনি। এ কারণে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় ছাড়া রাজপথ ছাড়বেন না বলেও জানান তিনি।

এমএইচএম/এএইচ/জেআইএম