মানবতার কল্যাণে বিমানের বিরল দৃষ্টান্ত

রফিক মজুমদার
রফিক মজুমদার , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮

জাতীয় পতাকার রং মেশানো ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’ গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বিনা ভাড়ায় ৮৬১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ বহন করেছে। এর মধ্যে আবুধাবি থেকে ২৭ জন, দোহা থেকে ৮ জন, দাম্মাম থেকে ৯৩ জন, দুবাই থেকে ৫৯ জন, কুয়ালালামপুর থেকে ৬২ জন, জেদ্দা থেকে ৩২ জন, কুয়েত থেকে ৯১ জন, মাস্কাট থেকে ১৭৩ জন এবং রিয়াদ থেকে ৩১৬ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে এনেছে। এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে মানবতার কল্যাণে এটিকে বিরল দৃষ্টান্ত মনে করা হচ্ছে।

বিমান সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার চার দশক পর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত রেমিটেন্সের সঙ্গে জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিরা, আর বিশ্বের নানা প্রান্তে কর্মরত অভিবাসী বাংলাদেশিদের পরিবহনে বিমান সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক সংকটে, যুদ্ধাবস্থায়, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বিভিন্ন গন্তব্যস্থল থেকে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ বিনামূল্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে বয়ে এনে জাতীয় সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসাবে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।

সেইসঙ্গে দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে মৃত প্রবাসীদের মরদেহ বিনাখরচে বহন করে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ প্রসঙ্গে বিমানের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, ‘বিমান বিনা ভাড়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের মরদেহ বহন করে। একজনের মরদেহ বহন করতে অন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ করতে হয়।’

তিনি জানান, ‘৮৬১ জন প্রবাসীর মরদেহ বহনে বিমান স্বজনদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেয়নি। যেখানে অর্থ নিলে বিমানের মরদেহ পরিবহন খাত থেকে ৮ কোটি ৪০ লাখ ৮৭ হাজার ৪শ’ ৬০ টাকা আয় করা সম্ভব হতো।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশের মত ক্রমবর্ধিষ্ণু জনগোষ্ঠীর দেশে অভিবাসন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স জাতীয় উন্নয়নের অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। প্রবাসী কর্মীদের বিদেশযাত্রাকে সহজ ও নিরাপদ রাখাকে বিমান সবসময় অগ্রাধিকার দেয়। প্রবাসীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই বেশির ভাগ ফ্লাইটের রুট ও সময় নির্ধারণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি প্রবাসীদের যাতায়াতকে আরও সহজ করতে সৌদি আরবের মক্কা, মদিনার পাশপাশি জেদ্দা, রিয়াদ ও দাম্মামের পাশাপাশি মদিনা থেকে ফ্লাইট পরিচালানার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এএম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, প্রবাসীরা আয়ের জন্য দেশের বাইরে যান। নানা কারণে প্রবাসে স্বজনদের মৃত্যু তাদের পরিবারের জন্য মর্মান্তিক। প্রবাসীদের মরদেহ বিমান বাংলাদেশ নিয়ে আসে এজন্য মৃত প্রবাসীর স্বজনদের কোনো খরচ দিতে হয় না। বিমান সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করছে। এই কাজটি আমরা সবসময় করে যেতে চাই।

আরএম/এসএইচএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :