রংপুরের ধারাবাহিকতা আগামী নির্বাচনেও রক্ষার দাবি সুজনের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৪৭ এএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮
রংপুরের ধারাবাহিকতা আগামী নির্বাচনেও রক্ষার দাবি সুজনের

রংপুরে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো তার ধারাবাহিকতা আগামী সব নির্বাচনে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন সুজন নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেছেন, রংপুরে ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি, যারা প্রার্থী হতে চেয়েছেন তারা প্রার্থী হতে পেরেছেন। ভোটারদের সামনে বিকল্প প্রার্থী ছিল, অর্থাৎ নির্বাচনটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এই নির্বাচনে ভোটাররা ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। রংপুরের নির্বাচনকে তাই আন্তর্জাতিক আইনের ভাষায়, ‘জেনুইন ইলেকশান’ বা সঠিক নির্বাচন বলা চলে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উদ্যোগে ‘রংপুরের সফল নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব কথা বলেন। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সুজন নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজমুদার, ড. আসিফ নজরুল, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শফিউল আলম, রাজনীতিবিদ হুমায়ুন কবীর হিরু, সুজন ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

মূল প্রবন্ধে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সেখানে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা প্রদর্শন এবং জন আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। কমিশন ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিট্রেটের অধীনে ৩৩টি এবং বিচারিক ম্যাজিট্রেটের অধীনে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছিল। সর্বোপরি রংপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন তথা সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোও সদাচারণ করেছে। একইসঙ্গে এ নির্বাচনে গণমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা পালন এবং নাগরিক সমাজও ব্যাপক সক্রিয়তা প্রদর্শন করেছে।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, এই নির্বাচন কমিশন রংপুরের নির্বাচনের আগে কুমিল্লায় একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে, তা ভুলে গেলে চলবে না। রংপুরের নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্য কাজ করেছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করার জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন দরকার।

শফিউল আলম বলেন, আমরা নৈরাশ্যবাদী হতে চাই না। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের প্রত্যাশা ও আন্তরিকতা থাকলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। একজন নাগরিক হিসেবে আমি আশা করি রংপুরের নির্বাচনের ধারাবাহিকতা আগামী নির্বাচনগুলোও অব্যাহত থাকবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, সুজন সীমিত সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখার জন্য নির্বাচনকেন্দ্রিক যেসব কাজ করছে তাতে আমরা আশাবাদী হতে পারি। কিন্তু রংপুরের নির্বাচন নিয়ে আমরা খুব একটা আশাবাদী হতে পারি না। কেননা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানবিরোধী দল অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক হয় তাহলে সরকারের যত খারাপ দুরভিসন্ধি থাকুক না কেন, তাতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা সহজ হয় না।

দিলীপ কুমার সরকার বলেন, সাম্প্রতিক যে সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে রংপুরের নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এ নির্বাচনে সুজনের উদ্যোগে মেয়র পদপ্রার্থীদের নিয়ে একটি এবং অন্য ১৫টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নিয়ে ‘ভোটার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজার হাজার ভোটার অংশ নেন।

এফএইচএস/জেডএ/বিএ