প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় জ্ঞান-প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮

বিদেশি পরামর্শক ও প্রকল্প নির্ভর পরিকল্পনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যর্থ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস’ বিষয়ক বিশেষ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।

এতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও জাতীয় পেশাজীবি, সামাজিক সংগঠনের পরিবেশ বিশেজ্ঞরা যোগ দেন।

অধ্যাপক এম ফিরোজের সভাপত্বিতে উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন এবং সহ-সভাপতি ও বেনের বৈশ্বিক সমন্বয়ক ড. নজরুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অধিবেশন সঞ্চালনা ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের সদস্য সচিব স্থপতি ইকবাল হাবিব।

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল বাংলাদেশে। আমরাই তা ধ্বংস করেছি। আমাদের উন্নয়ন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার ফলে আমরা প্রকৃতি বিরোধী অবকাঠামো তৈরি করেছি। যা সমস্যার সাময়িক সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করছে। তাই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আমাদের স্থানীয় জ্ঞানকে প্রাধান্য দিয়ে করতে হবে।

ড. এম ফিরোজ আহম্মদ বলেন, বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভূমিধসের জন্য শুধুই প্রাকৃতিক কারণ দায়ী নয়, মনুষ্যসৃষ্ট কারণও এই দুর্যোগগুলোকে আরও ভয়াবহ করছে। আমাদের ভবিষ্যত্ব প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের পরিবেশ রক্ষায় আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।

ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গঠন, বৃষ্টিপাতের ধরনের সঙ্গে অন্যান্য দেশের অবস্থা এক নয় বিধায় পরিকল্পনায় অন্যদেশের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য যথাযথ নয়। বিগত দিনগুলোতে আমাদের পরিবেশবিরোধী ভ্রান্ত বিদেশি পরামর্শে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো বর্তমানে বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছে।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ভবিষ্যত বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের উদাহরণ। স্থানীয়দের জ্ঞান বৈজ্ঞানিক বিচার-বিশ্লেষণের সমন্বয়ে সমস্যার কার্যকর সমাধান করা সম্ভব। তাই সমস্যার পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে বাপা, বেনসহ দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে নিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

সম্মেলনে ১০টি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, ২টি সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ড. আইনুন নিশাত, অধ্যাপক বদরুল ইমামসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার চার শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

শনিবার দুই দিনের এ সম্মেলনের শেষ দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে আরও ৫টি সমান্তরাল বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, ২টি সাধারণ অধিবেশন, ১টি কৌশলগত অধিবেশন ও বিকাল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হবে।

এফএইচএস/এমএমজেড/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :