প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ শুরু শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ শুরু হচ্ছে শনিবার (২০ জানুয়ারি)।

বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

এবারের সপ্তাহের স্লোগান ‘বাড়াবো প্রাণিজ আমিষ গড়বো দেশ, স্বাস্থ্য মেধা সমৃদ্ধির বাংলাদেশ’। সপ্তাহ শেষ হবে ২৫ জানুয়ারি।

মন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, এ বছর আয়োজিত প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহের উদ্বোধনের সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।’

গতবারের ন্যায় এবারও কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে এ সেবা সপ্তাহ পালন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সব পর্যায়ের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রোববার সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি হবে। র‌্যালিটি প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে সেচ ভবন ও সংসদ ভবনের মেইন গেট হয়ে পুনরায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে এসে শেষ হবে।’

তিনি বলেন, ‘ওইদিন বিকেল ৩টায় ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি। একই স্থানে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে ২০-২৩ জানুয়ারি প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রদর্শনী হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘২১ জানুয়ারি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের থ্রি-ডি সেমিনার হলে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সভা ও সেমিনার হবে। ২২ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে বিকেলে ৫টা পর্যন্ত প্রথম আলো অফিসে প্রাণিসম্পদবিষয়ক পলিসি ডায়ালগ হবে।’

সপ্তাহে ঢাকার উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও আমিনপুর পৌরমাঠে উন্নত জাতের গবাদি পশু প্রদর্শনী হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতা ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীর পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়/মাদরাসা/এতিমখানায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় ডিম/ডিমজাত দ্রব্য, দুগ্ধ/দুগ্ধজাত দ্রব্য এবং মাংস/মাংসজাত দ্রব্য খাওয়ানো হবে। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে ২৫ জানুয়ারি প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘দেশব্যাপী সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচির মধ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা, প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সেবা ক্যাম্প (বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, টিকা ও পরামর্শ), স্কুল ফিডিং (ডিম, দুধ ও মাংস বা জাত খাদ্যদ্রব্য), উন্নত জাতের গবাদি পশুর প্রদর্শনী ও খামারি সমাবেশ হবে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে মেলা, প্রদর্শনী, পোস্টার লিফলেট বিতরণ করা হবে।’

দেশের মোট কৃষিজ জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান প্রায় ১৪ দশমিক ৩১ ভাগ জানিয়ে নারায়ণ চন্দ্র বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল এক দশমিক ৬০ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। তাছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ খাতে জিডিপির আকার ছিল ৩৫ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা, যা বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ২ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা বেশি।’

প্রাণিসম্পদজাত খাদ্য পণ্যের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন কার্যক্রম বাড়ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভিশন-২০২১ অনুযায়ী জনপ্রতি দুধ, মাংস ও ডিমের চাহিদা যথাক্রমে জনপ্রতি দুধের চাহিদা দিনে ১৫০ মিলিলিটার, মাংসের ১১০ গ্রাম ও ডিমের বছরে ১০৪টি পূরণের লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুধের উৎপাদন ৯৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন, মাংসের উৎপাদন ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টন এবং ১৭৮১ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মাকসুদুল হাসান খান ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক আইনুল হকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :