ওয়ারীতে পিটিয়ে হত্যায় ৪ জনের দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫০ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০২:৫১ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮
ওয়ারীতে পিটিয়ে হত্যায় ৪ জনের দায় স্বীকার

রাজধানীর ওয়ারীতে নাজমুল হক (৬৫) নামে এক অসুস্থ ব্যক্তিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে চার জন। অভিযুক্ত এ চার জন গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

একই ভবনে আয়োজিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান-বাজনার প্রতিবাদ করায় ওয়ারীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৪৪ নম্বর বাড়ির সামনে শুক্রবার সকালে পিটিয়ে হত্যা করা হয় নাজমুলকে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। শুক্রবার রাতে নাজমুলের মৃত্যুর ঘটনায় সাত জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ছেলে নাসিমুল হক। মামলার আসামিরা হলেন, আলতাব, বর হৃদয়, জাহিদ, সাজ্জাদ হোসেন, রাইয়ান ইয়াসমিন, হোসনে আরা ও জিনাত।

নিহত নাজমুলের পুত্রবধু সাদিয়া নাসরিন জানান, বহুতল বাড়িটির অষ্টম তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন তারা। ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন আলতাব হোসেন নামে এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার রাতে বাসার ছাদে আলতাবের ভাতিজা হৃদয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান ঘিরে বিকট আওয়াজ ও গান-বাজনা চলছিল।

সাদিয়া আরও জানান, চার বছর আগে তার শ্বশুর নাজমুলের বাইপাস সার্জারি হয়। তার জেরে কিছু দিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাদিয়ার দাবি, এই অবস্থায় ছাদে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গান-বাজনার প্রচণ্ড শব্দে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন নাজমুল।

নিহতের ছেলে নাসিমুল হক বলেন, বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাসার ছাদে যাই। সেখানে গান-বাজনার আওয়াজ কমাতে অনুরোধ জানাই। কিন্তু তারা উচ্চ সাউন্ড বন্ধ না করে বাক-বিতণ্ডা শুরু করেন। এরই জেরে শুক্রবার সকালে ভবনের নিচতলায় আলতাব, বর, হৃদয়, নিলয় এবং আরও কয়েকজন মিলে বাবা ও আমাকে মারধর করে। বেধড়ক মারধরে বাবা অচেতন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনা সম্পর্কে ওয়ারী থানার ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম বলেন, গান বাজানোকে কেন্দ্র করে এই গণ্ডগোল হয়। পরে সকালে নাজমুলকে ভবনের নিচে ডেকে নিয়ে মারধর করা হলে তিনি মারা যান। তিনি জানান, ওই ভবনের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে মারধরের ঘটনা দেখা গেছে।

মামলার পর আলতাব, সাজ্জাদ, জাহিদও রাইয়ান ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল হককে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি তারা স্বীকার করেছেন। আজই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

জেইউ/ওআর/এমএস