স্থবির হয়ে পড়ছে শিক্ষকদের জাতীয়করণের আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৭:৪৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮
স্থবির হয়ে পড়ছে শিক্ষকদের জাতীয়করণের আন্দোলন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন স্থবির হয়ে পড়ছে। টানা ১১ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। অসুস্থ হয়ে অনেকে আবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

এ কারণে তাদের আন্দোলনে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

mpo

তবে এ আন্দোলনকে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ‘বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের’ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দীন।

তিনি বলেন, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাল (রোববার) থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে জাতীয়করণ দাবির আন্দোলনে যোগ দেবেন। সব জেলা পর্যায়ের শিক্ষক নেতৃবৃন্দর কাছে এ বার্তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সে নির্দেশনা অনুযায়ী কাল থেকে নতুন করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক-কর্মচারীরা যোগ দিতে ঢাকায় আসা শুরু করবেন। তাদের উপস্থিতিতে আন্দোলনকে আরও জোরালো করে তোলা হবে। জাতীয়করণ ছাড়া আমরা রাজপথ ছাড়বো না। এটি আমাদের মর্যাদার লড়াই। তাই জীবন চলে গেলেও আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাবো না।

MPO-1

তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ করতে সরকারের নতুন করে অর্থের প্রয়োজন নেই। প্রতি মাসের এ বাবাদ সরকারের দেয়া এক হাজার কোটি টাকা দিয়েই সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা সম্ভব। আমাদের আন্দোলন সরকারকে বিপদে ফেলা বা নির্বাচনী বছরকে কেন্দ্র করে না। শিক্ষকরা ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন।

বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আমরণ অনশন অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৬ষ্ঠ দিনের মতো অনশন পালিত হচ্ছে। এতে প্রায় ৮০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কেউ আবার সুস্থ হয়ে আন্দোলন যোগ দিচ্ছেন। অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

জাতীয়করণের দাবিতে ১৫ জানুয়ারি থেকে তারা প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তার পাশে পাটি বিছিয়ে গায়ে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে-বসে আমরণ অনশন পালন করে যাচ্ছেন। শিক্ষকদের ছয়টি সংগঠনের জোট ‘বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের’ ব্যানারে এ আন্দোলনের পরিচালিত হচ্ছে।

MPO-1

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ মাইকে তাদের দাবি পূরণে আন্দোলন চালিয়ে যেতে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে যাচ্ছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। সারা দেশের প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

তারা বলেন, দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তারা সেসব প্রতিষ্ঠান চালালেও নামে মাত্র বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তা দিয়েই মানবেতন জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। অথচ ৩ শতাংশ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উচ্চমানের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করতে হবে। এ দাবিতে আমরা রাজপথে নেমেছি।

এমএইচএম/এমবিআর/জেআইএম