ফিরতি পথেও বিড়ম্বনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪১ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

নেই পর্যাপ্ত গণপরিবহন। সকাল থেকেই যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইজতেমার পথে চলতে পারেনি পাবলিক বাস। ইজতামার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই পায়ে হেঁটে মুসল্লিরা পৌঁছাতে চেষ্টা করেছেন। যে যতদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন সেখান থেকেই আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়ে ফিরছেন। ফিরতি পথে মুসল্লিদের তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক কম থাকায় বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে এসব মুসল্লিদের।

train2

অনেকেই দীর্ঘপথ পেরিয়ে ফিরে আসছেন পায়ে হেঁটে, কেউ কেউ পিকআপ, প্যাডেলচালিত ভ্যানগাড়িতে করে। তবে অল্পসংখ্যক যেসব বাস আসছে সেগুলোতে তিলধারণের ঠাঁই নেই। সিটিং সার্ভিসের নামে কিছু কিছু বাসের গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব বাসে যাত্রীদের কাছে আদায় করে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। তাই মোনাজাত শেষে ফিরতি পথে বিড়ম্বনায় পড়েছেন মুসল্লিরা।

train3

যে যেমন পারছে সেভাবে টাকা আদায় করছে- এমন অভিযোগ করে ইজতেমা-ফেরত মুসল্লি জাহেদুর রহমান বলেন, বাসে উঠতে না পেরে হাউজবিল্ডিং থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত হেঁটে এসেছি। এরপর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে গাড়ি পাচ্ছি না। যেসব বাস আসছে সেগুলোতে ভিড়ের কারণে উঠতে পারছি না। আর অনেক বাসের গেট লাগানো, তারা সিটিং সার্ভিসের দোহাই দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পিকআপ ভ্যানে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে।

train5

এদিকে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গুলিস্থানগামী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে টাকা বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। ইজতেমা-ফেরত আরেক মুসল্লি হায়দার হোসেন বলেন, মানুষকে জিম্মি করে যে যার মতো পারছে ব্যবসা করছে। যানবাহন বেশি নেই, এদিকে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। বাধ্য হয়ে অনেকে পায়ে হেঁটেই ফিরছেন। আব্দুল্লাহপুর থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত পিকআপে এসে আমাকে ভাড়া দিতে হয়েছে ৫০ টাকা।

অন্যদিকে ট্রেনেও ছিল ইজতেমা-ফেরত যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। কানায় কানায় পূর্ণ ট্রেনের ছাদেও তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। তবুও ইজতেমা শেষে নানা বিড়াম্বনা নিয়ে ফিরছেন মুসল্লিরা।

train6

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে শুরু হওয়া মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা শেষ পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আজ। বেলা ১০টা ১৯ মিনিটে শুরু হয়ে চলে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। এর মধ্যে ১১ মিনিট আরবিতে এবং ১৫ মিনিট বাংলায় মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা প্রাঙ্গণে ঢল নামে লাখো মানুষের। ময়দানের আশপাশের রাস্তায়ও অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।

train7

উল্লেখ্য, টঙ্গীর তুরাগতীরে দেশি-বিদেশি লাখ লাখ মুসল্লির জমায়েতের মধ্যদিয়ে গত ১২ জানুয়ারি শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে ঢাকার একাংশসহ ১৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন। গত ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয় ওই পর্ব। এর গত শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) শুরু হওয়া ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অন্য ১৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন।

এএস/বিএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :