নিভু নিভু আগুনে রান্না করতে বিকেল হয়ে যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
ফাইল ছবি

‘সকাল থেকে গ্যাস কমতে শুরু করে। দুপুর হলে চুলার গ্যাস আর চোখে দেখা যায় না। আধা ঘণ্টার রান্না দুই ঘণ্টায়ও শেষ হয় না। আমরা বিকেলের আগে ভাল খেতে পারি না। গ্যাস নিয়ে খুব ঝামেলায় আছি।’

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল কবরস্থান রোডের নুরুল আমিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া আয়েশা আক্তার এভাবেই গ্যাস নিয়ে দুর্ভোগের কথা জানালেন। এমন অভিযোগ যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকার প্রায় প্রতিটি গৃহিণীর।

কয়েক মাস ধরে এসব এলাকায় দুপুরের দিকে গ্যাস একেবারেই চলে যায়। গ্যাস স্বাভাবিক হতে হতে রাত হয়ে যায়। কিছু কিছু বাড়িতে গ্যাস সমস্যা শুরু হয় সকাল থেকেই। এতে রান্না-বান্নার কাজে চরম বিপাকে পড়েন গৃহবধূরা। কোনো বাড়িতে সকালের নাস্তাই তৈরি হয় না। কোথাও কোথাও দুপুরের রান্না হতে বিকেল গড়ায়। তাই গ্যাস সংকটে দুপুরগুলো আতঙ্ক হয়ে ধরা দিচ্ছে গৃহিণীদের কাছে।

তবে এলাকাভেদে কোনো কোনো বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক আছে বলে জানা গেছে। যাত্রাবাড়ীর উত্তর রায়েরবাগের চাঁনবানু মসজিদের গলির একটি বাড়ির মালিক রীতা আক্তার বলেন, ‘দুপুর আমাদের কাছে আতঙ্কের। সকালে কিছুটা গ্যাস থাকলেও তখন বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। স্কুল থেকে ফিরে সব কাটাকুটি করে রান্না বসাতে বসাতে গ্যাস আর পাই না। নিভু নিভু আগুনে রান্না করতে করতে বিকেল হয়ে যায়।’

মাতুয়াইল হাজি মসজিদ এলাকার গৃহিণী সাথী আক্তার বলেন, আমার বাসায় গ্যাস তো সকাল থেকেই থাকে না। প্রতিদিনই দোকান থেকে নাস্তা আনতে হয়। বিকেল থেকে ধীরে ধীরে গ্যাস আসতে শুরু হবে

শনির আখড়া গোবিন্দপুরের বাসিন্দা অমূল্য চন্দ্র দত্ত (সুজিত) বলেন, অনেক দিন ধরে দুপুরের দিকে গ্যাস থাকে না। বাসার নারীরা দুর্ভোগে পড়ছে। কিন্তু সমস্যা সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখছি না। ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার হাজীনগর এলাকার গৃহিণী শামীমা আক্তারও দুপুর বেলা গ্যাসের চাপ একেবারে কমে যায় বলে অভিযোগ করেন।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অপারেশন কন্ট্রোল বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এইচ এম আলী আশরাফ মঙ্গলবার জাগো নিউজকে বলেন, অবস্থা এখন তো অনেকটাই ভালো। শীতের তীব্রতা কমে গেলে এটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পথেই আছে এখন। ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, শীত তীব্র হলে গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যায়। এ কারণেই গ্যাসের চাপও কমে যায়।

তবে তিতাসের একজন ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করে বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। এ কারণে প্রকৃত গ্রাহকরা গ্যাস পায় না। এটা দূর করা না গেলে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা থাকবেই।

আরএমএম/ওআর/এমবিাআর/জেআইএম