পরবর্তী রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত নেবে আ. লীগের মনোনয়ন বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১২ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮
ছবি-ফাইল

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি। মনোনয়ন বোর্ডেই সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। আমি ওই বোর্ডের সদস্য নই।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেষ্ঠ্য সহকারী জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা জানান।

অপর এক প্রশ্নে জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেট অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করণে আইন পাশ হতে পারে।

আনিসুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যপারে সংবিধান বলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে এবং সিডিউল দেবেন। সংবিধানে যেটা লেখা আছে সেটা হচ্ছে, ৯০ থেকে ৬০ দিনের মাঝখানের যে ৩০ দিন এই ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার মেন্ডেটরি। সেক্ষেত্রে ২৩ ফেব্রুয়ারির আগেই এই নির্বাচন হতে হবে। আমার বিশ্বাস নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল। তারা খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা দলের নীতি-নির্ধারক যারা তারা নিশ্চয়ই বসবেন এবং মনোনয়ন দেবেন। এটার ব্যপারেও কিন্তু একটা পদ্ধতি আছে। সে পদ্ধতি অনুসরণ করেই কিন্তু আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করবে।

আপনিও তো আওয়ামী লীগের অংশ- এমন কথা বলা হলে আনইমন্ত্রী বলেন, নিশ্চয়ই আমি অংশ। কিন্তু আপারা জানেন একটা নমিনেশন বোর্ড আছে। একটা পদ্ধতি দিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। আমি সেই নমিনেশন বোর্ডের সদস্য নই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই নমিনেশন বোর্ডরে সভাপতি, উনারা যখন প্রার্থী বাছাই করবেন তখন ঘোষণা হবে কাকে নমিনেট করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, প্রধান বিচারপতির পদও খালি কোনটা আপনারা প্রাধান্য দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব নিয়োগ হবে। মহামন্য রাষ্ট্রপতি খুব শিগগিরই নিয়োগ দেবেন। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির এখতিয়র। সেই ব্যপারে তিনি কখন ঘোষণা দেবেন তা এখনও জানি না।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি তারিখ ঘোষণা করেছিলেন আমি সেরকম শুনেছিলাম। এখন আমি বলছি এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব এবং আমি আশা করি আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে নির্বাচন কমিশন এ ব্যপারে তাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমার মনে হয় খুব শিগগিরই এ ব্যপারে তারা ঘোষণা দেবেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পাঁচ বছরের মেয়াদ এ বছরের ২৩ এপ্রিল শেষ হবে। সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হইলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হইতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’

যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা আইনের বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। বোধ হয় আগামী পার্লামেন্ট সেশনে- আগামী পার্লামেন্ট সেশনে বলতে আমি যেটা বোঝাচ্ছি সেটা হলো- এই পার্লামেন্ট সেশনের শেষ হওয়ার পর ছোট্টো একটা সেশন হবে যেটা আইন পাশের সেশন, সেখানে না গিয়ে আমরা বাজেট সেশনের সময় হয়তো এই আইনটা পাশ করার জন্য বেছে নেব।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মাদ জহিরুল হক।

এফএইচ/এমবিআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :