আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ৫৬ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৯ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

 

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন, হত্যা ও লুণ্ঠনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের হিসাব রাখতে নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখ ৫৬ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ তথ্য জানান।

শনিবার পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট জটিলতা ছিল অনেক বেশি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা কমিয়ে আনা হয়েছে। আশা করছি আগামীতে আরও দ্রুত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সেবা দেয়া সম্ভব হবে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহের আয়োজন করে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দ্রুত পাসপোর্ট সেবা পাওয়া নাগরিক অধিকার। ১১৮টি ই-পাসপোর্ট সেবা চালু রয়েছে। নাগরিক সুবিধা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশেও ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুধু ই-পাসপোর্ট নয় ই-গেটও চালু হবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলায় পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাঙালিরা সবদিক দিয়ে এগিয়ে যাবে- এমন স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক। কিন্তু সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন তিনি দেখে যেতে পারেননি। তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। দেশকে ডিজিটাল করার ঘোষণা দিয়েছেন। সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

‘রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু করে তখন বাধা দেননি প্রধানমন্ত্রী। বরং তিনি বলেছিলেন, আসতে দাও। আমরা যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি তবে ওরাও খেতে পারবে। এরপর তিনি তাদের নিবন্ধনের নির্দেশনা দেন। পাসপোর্ট অফিস, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও বেসামরিক লোকজনের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৫৬ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তারা দেশে আশ্রয় নিলেও দেশী ভিসায় অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না।’

‘টাকার বিনিময়ে ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে’- অনুষ্ঠান শেষে এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট পাওয়া যায়- এমন তথ্য সব সময় ঠিক নয়। আগে হয়তো এমন অভিযোগের কিছুটা সত্যতা ছিল। তবে এখন অনেক উন্নতি ঘটেছে। এখন তো দ্রুত মানুষ পাসপোর্ট পাচ্ছেন। সামনে প্রতিটি মানুষের হাতে স্মাটকার্ড পৌঁছে যাবে। তখন আর পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে না। মানুষ হয়রানিও হবে না, অভিযোগ বলে কিছুই থাকবে না।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য টিপু মুন্সি, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/এমএআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :